Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
হোম / ঢাকা বিভাগ / সারাদেশ / কিশোরগঞ্জ / কটিয়াদীতে স্কুল শিক্ষার্থী স্মৃতির রহস্যজনক মৃত্যু,পরিবারের দাবি হত্যাকাণ্ড - Chief TV

কটিয়াদীতে স্কুল শিক্ষার্থী স্মৃতির রহস্যজনক মৃত্যু,পরিবারের দাবি হত্যাকাণ্ড - Chief TV

2026-03-09  মোহাম্মদ রুস্তম আলী, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি  36 views
কটিয়াদীতে স্কুল শিক্ষার্থী স্মৃতির রহস্যজনক মৃত্যু,পরিবারের দাবি হত্যাকাণ্ড - Chief TV

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে স্কুলশিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার স্মৃতি (১৬)-র মৃত্যু নিয়ে নানান প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ বলছেন আত্মহত্যা আবার কেউ বলছেন এটি হত্যা৷ পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তুলে ঘটনার সঠিক বিচার ও হত্যা মামলা নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

তবে নিহত স্মৃতির পরিবার ও স্থানীয়রা বলছেন ‎মূলত ঘটনাটিকে অপমৃত্যু দেখিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে ।

‎ঘটনার পাঁচদিন অতিবাহিত হলেও, এখন পর্যন্ত এই মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় এবং অভিযুক্তদের আটক না করায় হতাশা প্রকাশ করেছে পরিবারের লোকজন।

‎লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা এলাকায় নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেছে নিহত স্মৃতির পরিবারের লোকজন।

‎পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং একই এলাকার সোহেল মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার স্মৃতি (১৬) ও বাবুল মিয়ার ছেলে আকরাম হোসেন (১৯) দুজনই একই স্কুলের শিক্ষার্থী। তাদের দুজনের বাড়ি পাশাপাশি গ্রামে। সহপাঠী হওয়ার সুবাদে প্রায় এক বছর আগে তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। তাদের এই অবাধ মেলামেশার বিষয়টি সবার নজরে আসে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে স্কুলের শিক্ষকরা তাদের অনেক সময় বুঝানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

Tatka Site & Portal Ad

‎সর্বশেষ গত ৩ জুন ২০২৫ তারিখে বন্ধু আকরামের ডাকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় সুমাইয়া আক্তার স্মৃতি। এরপর মেয়ের পরিবার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। পরে তারা নিজেরাই বিয়ে করে আকরামের বাড়িতে বসবাস করছিল। কিন্তু স্মৃতির স্বজনরা বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। ‎ছোটোবেলা থেকেই স্মৃতি তার দাদুর বাড়িতে থাকত। অনেক আগেই তার পিতা-মাতার বিচ্ছেদ হয়ে যায় এবং তারা আলাদা স্থানে বসবাস করছেন। ফলে মেয়ের দেখাশোনা নিয়মিত কেউ করতেন না।

‎সর্বশেষ ৪ মার্চ বুধবার ভোরে আকরামের বাড়ি থেকেই তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী আকরামসহ তার পরিবারের সবাই গা ঢাকা দিয়ে আছে।

লোহাজুরী পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ এম মহিবুর রহমান বলেন, তারা দুজনই ভালো শিক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল। আমরা শিক্ষকরা অনেকবার তাদের বুঝিয়ে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করলেও সফল হইনি। এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার স্মৃতির মৃত্যুকে আমিও স্বাভাবিক মনে করছি না। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

‎সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মৃত স্মৃতির ফুফু তামজিমা আক্তার বলেন, এই মৃত্যুকে আমরা স্বাভাবিক মনে করছি না। প্রায় ৮ মাস আগে আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভাতিজিকে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করা হয়। তখন আমরা একটি অভিযোগ দিয়েছিলাম। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। তার ঝুলন্ত লাশ দেখে আত্মহত্যার মতো কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। শরীরে আঘাতের দাগ ছিল। আমরা হত্যা মামলা করতে গেলেও আমাদের মামলা নেওয়া হচ্ছে না। লাশ উদ্ধারের সময় একটি স্বাক্ষর নিয়ে এটিকে অপমৃত্যু মামলা দেখানো হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার দাবি করছি। এসময় উপস্থিত ছিলেন, স্মৃতির চাচা মতিউর রহমান, দাদি হোসনে আরা বেগম, আত্মীয় তারিকুর রহমান মিটনসহ অনেকেই৷

এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী আকরাম হোসেন ও তার পরিবারের বক্তব্য নিতে গেলে তাদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে কল করলেও নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে মামলা নেওয়া হচ্ছে না এ অভিযোগটি সঠিক নয়। 
এই মৃত্যুর ঘটনার বিষয়টির তদন্ত চলমান রয়েছে। সেইসাথে আমরা বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে দেখছি। এবং তদন্তের সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


Share:

Single Page