ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের ব্যবহার অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাব আরও জোরালো করার প্রেক্ষাপটেই এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার (৭ জানুয়ারি) মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানায়, ইতোমধ্যে বৈশ্বিক বাজারে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল বিপণন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তেল বিক্রি থেকে আসা অর্থ প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে। এসব অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বার্থে ব্যয় করা হবে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। শিগগিরই এ বিক্রি শুরু হবে এবং সময়সীমা নির্ধারণ ছাড়াই কার্যক্রম চালু থাকবে।
এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যবহার করে কেবল যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত পণ্য কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল ভেনেজুয়েলান তেল যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, নতুন তেল চুক্তি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে ভেনেজুয়েলা শুধুমাত্র মার্কিন পণ্যই আমদানি করবে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পণ্যের মধ্যে থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উপকরণও এই অর্থে কেনা হবে।
এর আগের দিন মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল রফতানির বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে ভেনেজুয়েলা। এই চুক্তির ফলে দেশটির তেল সরবরাহ ধীরে ধীরে চীনের বাজার থেকে সরে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে মুখ ঘোরাবে। এতে করে ভেনেজুয়েলা বড় ধরনের উৎপাদন হ্রাসের ঝুঁকি এড়াতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।