একই ভবনের এক ফ্ল্যাট থেকে আরেক ফ্ল্যাটের দরজার দূরত্ব মাত্র তিন ফুট, অথচ সেই অল্প দূরত্বের মধ্যেও নিজের সন্তানকে নিরাপদ রাখতে না পারার চরম ক্ষোভ ও গভীর বেদনা প্রকাশ করেছেন রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে খুন হওয়া আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
শনিবার রাজধানীতে নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল কর্তৃক আয়োজিত ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে অশ্রুভেজা চোখে তিনি নিজের মেয়ের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির আকুতি জানান। আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, শিশুরা যদি সমাজের এমন নৃশংসতার শিকার হয়, তবে এর দায় শুধু পরিবারের নয়; সমাজ ও রাষ্ট্রকেও এর জবাবদিহি করতে হবে।
এদিকে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই শিশু হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৭ জুন রোববার দিন ধার্য করেছেন আদালত। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের এই দিন নির্ধারণ করেন।
যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে আইনে বর্ণিত সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
যদিও আসামিপক্ষের আইনজীবী ডিএনএ পরীক্ষা ও সিসিটিভি ফুটেজ না থাকার অজুহাতে আসামিদের খালাস দাবি করেছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, পাশের ফ্ল্যাট থেকে রক্তের আলামত ও শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এমনকি প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে সাজা চেয়েছেন, তবে তার স্ত্রী স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
আদালত উভয় আসামির বক্তব্য রেকর্ড করে আগামীকাল রোববার রায়ের দিন চূড়ান্ত করেছেন, যার দিকে এখন তাকিয়ে আছে নিহতের পরিবারসহ পুরো দেশ।