মাত্র ১শত ৫০টাকার দ্বন্দে কেন্দ্র বাতিল করেছে শিক্ষা অধিদপ্তর। এমন ঘটনা পটুয়াখালীর বাউফল সরকারী কলেজে। এতে বিপাকে পরেছেন অনার্স ফাইনাল বর্ষের কয়েকশত পরিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীনী।
আগামী ৩০ তারিখ অনুষ্ঠিতব্য অনার্স পরিক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তন করে পটুয়াখালী করিম মৃধা কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে।
জানাগেছে, বাউফল সরকারী কলেজ ২০১২সালে যাত্রা শুরু করে। শুরুর পর থেকে অনার্স (সস্মান) পরিক্ষা ওই কলেজে অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৭ সালে শিক্ষামন্ত্রনালয় পরিক্ষা কেন্দ্র পরিবর্তন করে ৩কিলোমিটার দুরে কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রী কলেজে স্থানান্তর করে। কিন্তু চলতি বছর পরিক্ষা শুরুর মাত্র ১০দিন আগে হঠাৎ কেন্দ্র স্থানান্তর করে ৩৫কিলোমিটার দুরে জেলা সদর পটুয়াখালী করিম মৃধা কলেজে স্থানান্তর করে শিক্ষা অধিদপ্তর। এতে বিপাকে পারেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে মাত্র ১শত ৫০ টাকার দ্বন্দে ওই কেন্দ্র পরির্তনের করা হয়েছে এমন অভিযোগ পাওয়াগেছে। কেন্দ্র ফি বাবদ প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪শত ৫০টাকা করে আদায় করা হয়। কিন্তু কালাইয়া কলেজ কেন্দ্রে প্রতি পরিক্ষার্থী বাবদ ৩০০টাকা করে পরিশোধ করা হয়। যা ওই কলেজ কর্তৃপক্ষের পরিক্ষা ব্যয় সংকুলান হয় না। ফলে পরিক্ষা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ অপারগতা জানিয়ে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই কেন্দ্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা অধিদপ্তর।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ৩৫ কিলোমিটার দুরে গিয়ে পরিক্ষা দেয়ার কারণে সময় নষ্ট হবে। তাছাড়া অনেক শিক্ষার্থীর বাচ্চা রয়েছে এমনকি প্রেগনেন্সিতে থাকায় এত দুরে গিয়ে পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করা অসম্ভব। তাদের দাবি পরিক্ষা কেন্দ্র যথাস্থানে ফিরিয়ে দেয়া হোক।
সসাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাবের মাহমুদ বলেন, এই ৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে আমাদের প্রায় ২ঘন্টা সময় প্রয়োজন। দুপুর ১টার পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হলে আমাদেরকে অন্তত ৩ঘন্টা আগে রওয়ানা করতে হবে। পরিক্ষার রওয়ানা হওয়ার আগে প্রতিটি পরিক্ষার্থীর খাবার গোসলসহ আরও অন্তত ১ থেকে দেড় ঘন্টা লাগে। তাতে একজন শিক্ষার্থীকে সকাল ৯টায় প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। বিকাল ৫টায় পরিক্ষা শেষ হলে বাড়ি ফিরতে অনেকের রাত ১০টা বেজে যেতে পারে। এটা আমাদের জন্য এক ধরনের মানসিক প্রেসার।
একই ভাবে অপর আরও এক শিক্ষার্থী বলেন, বাউফল থেকে পটুয়ালীর যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যান্ত খারাপ। ভাঙা-চোরা রাস্তায় অনেক বেশি সসয় ব্যায় হবে। যদি কোন পরিক্ষার্থী সময়মত রওয়ানা হতে না পারে বা রাস্তায় সামান্য দূর্ঘটনায় পতিত হয় তাহলে সে নিশ্চিত পরিক্ষা মিস করতেও পারে। এরকম একটি পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য কলেজ অধ্যক্ষই দায়ি বলে জানিয়েছেন তারা।
কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ এনায়েত হোসেন জানান, কেন্দ্র খরচ বহন করার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪শত ৫০টাকা করে উত্তোলন করা হয় প্রতি বছর। কিন্তু কেন্দ্র ফির ৩০০টাকা আমাদেরকে দেয়া হয় বাকি ১৫০টাকা বাউফল ডিগ্রী কলেজ আমাদেরকে দেয় না। আমরা ক্লাস উপেক্ষা করে পরিক্ষা পরিচালনা করি এর উপর আবার নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে কিভাবে কেন্দ্র পরিচালনা করবো। তাই আমরা কেন্দ্র প্রত্যাহার চেয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন করেছি।
এবিষয়ে বাউফল ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বশার তালুকদার জানান, ৪শত ৫০টাকা করে উঠানো হয় এটা ঠিক তবে ১৫০টাকা মেইন্টিনেন্স খরচ হিসেবে রাখার পরিপত্র রয়েছে। কালাইয়া কলেজ কেন্দ্র প্রত্যাহার চেয়ে যে আবেদন করেছে তা আমি জানতাম না। পরিক্ষার মাত্র ১২দিন আগে আমার কাছে যে পেপারস এসেছে তাতে দেখতে পাই কেন্দ্র পরির্বত করা হয়েছে। আগামী বছরগুলোতে যাতে পরিক্ষা স্ব-কেন্দ্রে হয় তার জন্য চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।