আজ পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা শবে মেরাজ। হিজরি সনের রজব মাসের ২৬ তারিখের এই বরকতময় রাতে মহান আল্লাহ তায়ালার রহমত ও মাগফিরাত কামনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদে-মসজিদে, নিজ নিজ ঘরে এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির-আজকার ও দোয়ার মধ্য দিয়ে সারাদেশে এ মহিমান্বিত রাতটি পালন করা হবে।
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পবিত্র রাতেই মহান আল্লাহর বিশেষ নির্দেশে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আরশে আজিমে আরোহণ করে আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্য লাভ করেন। শবে মেরাজের ঘটনাতেই মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়, যা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত।
ইতিহাস মতে, নবুওয়াতের দশম বছরে, ৬২১ খ্রিষ্টাব্দে এ রাতে হযরত জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে ‘বুরাক’ নামক বিশেষ বাহনে নবী করিম (সা.) মক্কা শরিফ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় গমন করেন। সেখানে তিনি সকল নবী-রাসুলের ইমামতি করেন—যা কুরআনে ‘ইসরা’ নামে উল্লেখিত। এরপর ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ বা ‘মেরাজ’-এর মাধ্যমে তিনি সিদরাতুল মুনতাহা, বায়তুল মা’মুরসহ জান্নাত ও জাহান্নামের নানা নিদর্শন প্রত্যক্ষ করেন এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেন।
শবে মেরাজ উম্মতে মুহাম্মদির জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যবাহী একটি রাত। এ রাতেই মানবজাতির জন্য দৈনিক পাঁচবার নামাজ আদায়ের বিধান আল্লাহ তায়ালা উপহার হিসেবে প্রদান করেন, যা রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর পক্ষ থেকে গ্রহণ করে উম্মতের কাছে পৌঁছে দেন।
পবিত্র শবে মেরাজ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বিশেষ আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকা ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ এবং নফল ইবাদতের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এই বরকতময় রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির-আজকার ও দোয়ার মাধ্যমে ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করবেন। গভীর রাত পর্যন্ত দেশের ঘরে ঘরে ইবাদতের মধ্য দিয়ে শবে মেরাজ পালিত হবে।