পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই ২০২৬ সকাল সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার ১ নম্বর অমরখানা ইউনিয়নের ভিতরগড় গ্রামের মহারাজা দিঘীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরিচয় শনাক্তের পর জানা যায়, নিহত ব্যক্তি পঞ্চগড় সদর উপজেলার মালাদাম এলাকার বাসিন্দা মো. মানিক হোসেন (১৯)।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমানের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল তদন্ত শুরু করে। প্রযুক্তির সহায়তা, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নিহতের বড় বোন সমলা আক্তারকে আটক করা হয়। পরে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে সমলা আক্তার তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান এবং সেই সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে মানিক ওই সম্পর্ক চালিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন পরিকল্পিতভাবে সমলা মানিককে মহারাজা দিঘী এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে হত্যা করে মরদেহ দিঘীর পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশের দাবি।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত সমলা আক্তারকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।