পূর্বে অনুমোদন দেওয়া বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার হোল্ডিং নম্বর প্লেট স্থাপন কাজ হঠাৎ করে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে গৌরনদীর ইউএনও ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে বেসরকারি সংস্থা টার্গেট পিপল ফর ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (টিপিডিও)-এর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আলী মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) এ উকিল নোটিশ পাঠান। এ বিষয়টি টিপিডিও’র পক্ষের বরিশাল জজকোর্টের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন মিজান নিশ্চিত করেছেন।
নোটিশে বলা হয়, গৌরনদী পৌরসভার হোল্ডিং নম্বর প্লেট স্থাপনের কাজের জন্য ২০২৫ সালের ১২ মার্চ টিপিডিও আবেদন করলে পৌর কর্তৃপক্ষ কাজটি করার অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে পৌরসভার অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রমের কারণে কাজটি সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখা হয়।
এরপর ২০২৬ সালের ১২ মার্চ পুর্নরায় কাজ শুরু করার আবেদন করলে ১৫ মার্চ পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে সংস্থাটি প্রায় ১০ হাজার প্লেট প্রস্তুত, জনবল নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ক্রয় করে। কিন্তু হঠাৎ করেই একই কাজ অন্য একটি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে দাবি টিপিডিও’র। নোটিশে প্রশাসনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে কী কারণে পূর্ব অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও কাজটি অন্যত্র দেওয়া হলো এবং কেন সংস্থাটিকে কাজ থেকে বিরত রাখা হলো। একই সঙ্গে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
বেসরকারি সংস্থা টিপিডিও’র পক্ষের অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন মিজান বলেন, আমার মক্কেলের পক্ষে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) গৌরনদী পৌর প্রশাসককে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, পৌরসভা থেকে একটি আবেদনের কাগজ পেয়েছি তাই যাচাই-বাচাইয়ের সুযোগ ছিলোনা। তবে কেউ যদি কোন অভিযোগ করে তাহলে তাদের আবেদনও বিবেচনা করা হবে। এছাড়া তাদের আমার অফিসে আসতে বলেন তাদের, পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে তাদের কাজ দিবো। যাদের কাজ দিয়েছি কেউ আমার আত্মীয় স্বজন নয়।