সারাদেশে চলছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। কিন্তু পরীক্ষা চলাকালীন এই সময়ে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় ঘটেছে এক বিস্ময়কর ঘটনা। নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষার ২৬৮টি উত্তরপত্র উদ্ধার করে থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। তবে, উদ্ধারকৃত খাতাগুলো অক্ষত ও সিলগালা অবস্থায় থাকায় কোনো বড় ধরনের সমস্যা হয়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে স্থানীয় এক যুবক খাতাগুলো শিবপুর মডেল থানায় জমা দিলে বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার শাষপুর শহীদ মিনার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি ব্রিজের কাছে রাস্তার ধারে তিনটি বড় প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখেন মাছিমপুর ইউনিয়নের দত্তেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রাহিম মিয়া।
কৌতূহলবশত তিনি প্যাকেটগুলো বাড়িতে নিয়ে যান। পরদিন এক শিক্ষিত প্রতিবেশীর সহায়তায় তিনি জানতে পারেন, সেগুলো চলতি বছরের এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষার উত্তরপত্র। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে তিনি খাতাগুলো শিবপুর মডেল থানায় জমা দেন। খবর পেয়ে শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন এবং শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থলে গিয়ে খাতাগুলো দেখেন।
জানা যায়, সিলগালা করা তিনটি প্যাকেটে গত ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এসএসসি ভোকেশনাল ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের মোট ২৬৮টি খাতা ছিল। উদ্ধার হওয়া খাতাগুলো নরসিংদীর মনোহরদী এবং গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার পরীক্ষার্থীদের। ডাক বিভাগের রানারের মাধ্যমে এক পোস্ট অফিস থেকে অন্য পোস্ট অফিসে স্থানান্তরের সময় অসাবধানতাবশত ভ্যানগাড়ি থেকে খাতাগুলো রাস্তায় পড়ে যায়।
রহিম মিয়া জানান, রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে বাড়ি আসার পথে রাস্তায় প্যাকেট করা বান্ডেল দেখতে পেয়ে আমি এগুলো আমার বাড়িতে নিয়ে আসি এবং আমার প্রতিবেশী ভাইকে দেখিয়ে নিশ্চিত হই এগুলো পরীক্ষার খাতা। ভাইয়ের পরামর্শ মতে আমি খাতাগুলো অক্ষত অবস্থায় থানায় জমা দিয়ে দেই।
শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন জানান, খাতাগুলো সম্পূর্ণ অক্ষত ও সিলগালা অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম বা জটিলতা সৃষ্টি হয়নি। পরে সেগুলো পুনরায় সিলগালা করে শিবপুর উপজেলা পোস্ট অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সার্বিক বিষয় জানিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছি।