বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দারুণ লড়াইয়ের স্বীকৃতি পেলেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। নতুন চুক্তি অনুযায়ী ২০৩০ সাল পর্যন্ত ফারাওদের দায়িত্বে থাকতে পারেন অভিজ্ঞ এই কোচ।
বুধবার (৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মিশরের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ইএফএ সভাপতি হ্যানি আবু রিদা জানান, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান কোচ হোসাম হাসান ও দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসানের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন চুক্তিতে আগামী চার বছর মিশর জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করবেন হোসাম হাসান। যদিও এবারের বিশ্বকাপে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই দল পরিচালনা করেছেন তিনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিশ্বকাপের আগে নতুন চুক্তি করেনি ফেডারেশন।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিশরের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলের পারফরম্যান্সে বড় পরিবর্তন আনেন ৫৯ বছর বয়সী এই কোচ। তার অধীনে ২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের সেমিফাইনালে পৌঁছায় মিশর। এবারের বিশ্বকাপে এসে আরও বড় সাফল্য পায় দলটি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার জয় এবং প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে খেলার কৃতিত্ব অর্জন করে ফারাওরা। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথম জয় তুলে নেয় মিশর। এরপর বেলজিয়াম ও ইরানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ড্র করে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় তারা।
শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে আরও এগিয়ে যায় মিশর। এরপর শেষ ষোলোর ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হোসাম হাসানের কৌশল নজর কাড়ে। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখলেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় দলটি।
কোচ হিসেবে সাফল্যের আগে খেলোয়াড় হিসেবেও মিশরের ফুটবলের অন্যতম বড় নাম ছিলেন হোসাম হাসান। জাতীয় দলের হয়ে ১৭৭ ম্যাচে ৬৯ গোল করা এই কিংবদন্তি এখনো দেশটির সর্বোচ্চ গোলদাতা।
খেলোয়াড় ও কোচ—দুই ভূমিকাতেই মিশরের ফুটবলে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।