সামাজিক শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় নিজেদের ব্যবহৃত ২৩টি দেশীয় অস্ত্র স্বেচ্ছায় পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছেন তিনটি গ্রামের ২৫ জন বাসিন্দা।
গত বুধবার (১০ জুন) বিকেলে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই অস্ত্রগুলো হস্তান্তর করেন। দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এমন মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে পুরো এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অস্ত্র জমা দিতে আসা এই নাগরিকদের কোনো শাস্তির মুখোমুখি না করে, উল্টো ফুল দিয়ে বরণ করে সম্মাননা জানায় উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন।
আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা ও স্থানীয় সুধীজন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কেবল ভয়ভীতি বা কঠোর আইনি শাস্তির মাধ্যমে নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা ও ইতিবাচক স্বীকৃতির মাধ্যমে মানুষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলা সম্ভব।
আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা ও স্থানীয় সুধীজন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কেবল ভয়ভীতি বা কঠোর আইনি শাস্তির মাধ্যমে নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা ও ইতিবাচক স্বীকৃতির মাধ্যমে মানুষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলা সম্ভব।
মাঝারদিয়া ইউনিয়নের এই পদক্ষেপটি সমাজে শান্তি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে। অবৈধ অস্ত্র যেখানে প্রতিনিয়ত সমাজে সহিংসতা ও অস্থিরতা তৈরি করে, সেখানে সাধারণ মানুষের এমন সম্মিলিত অংশগ্রহণ একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।
ফুল দিয়ে বরণ করার এই মানবিক বার্তাটি এলাকায় টেকসই শান্তির পরিবেশ তৈরি করবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
সালথা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বেচ্ছায় জমা পড়া এসব দেশীয় অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০টি ঢাল ও ১৩টি ঢ্যাঙ্গা বা সড়কি। মূলত ফরিদপুর-২ আসনের জনপ্রিয় নেতৃত্ব ও বিশিষ্টজনদের বিশেষ দিকনির্দেশনায় এবং উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় পুলিশ এই সময়োপযোগী সচেতনতামূলক কার্যক্রমটি শুরু করেছে।
সালথা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বেচ্ছায় জমা পড়া এসব দেশীয় অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০টি ঢাল ও ১৩টি ঢ্যাঙ্গা বা সড়কি। মূলত ফরিদপুর-২ আসনের জনপ্রিয় নেতৃত্ব ও বিশিষ্টজনদের বিশেষ দিকনির্দেশনায় এবং উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় পুলিশ এই সময়োপযোগী সচেতনতামূলক কার্যক্রমটি শুরু করেছে।
পুলিশ প্রশাসন আরও জানিয়েছে, যারা স্বেচ্ছায় এসব অস্ত্র জমা দিয়েছেন তাদের কারও নামেই কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। সালথার অন্যান্য সংঘর্ষপ্রবণ এলাকা যেমন— সোনাপুর ও গট্টি ইউনিয়নেও পর্যায়ক্রমে এই বিশেষ অস্ত্র উদ্ধার ও সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হবে।
অবৈধ অস্ত্রমুক্ত ও নিরাপদ সালথা গঠনে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় অনুষ্ঠান থেকে।