পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শেষে নানাজন নানা রকমের পেশা বেছে নেন। কেউ পা বাড়ান কোচিংয়ে, কেউ নাম লেখান টেলিভিশন বিশ্লেষকের তালিকায়, আবার কেউ বা বসেন ক্লাব প্রশাসনের রাজকীয় চেয়ারে।
ফুটবল বিশ্বে এসব গল্প ভীষণ চেনা হলেও মরক্কো ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তারকা ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউইর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যেন এক সম্পূর্ণ নতুন ও স্রোতের বিপরীতমুখী অধ্যায়।
মাঠের সবুজ ঘাস আর গ্যালারির আকাশচুম্বী করতালির জগৎ ছেড়ে ভবিষ্যতে নিজেকে দেখতে চান ধর্মীয় শিক্ষার আলোয়—একজন হাফেজে কোরআন এবং মসজিদের ইমাম হিসেবে।
বর্তমানে ২৮ বছর বয়সি মাজরাউই একজন ডিফেন্ডার হিসেবে ক্যারিয়ারের সোনালি সময় পার করছেন। ক্লাব ফুটবল ও মরক্কো জাতীয় দলের রক্ষণভাগের অন্যতম অতন্দ্র প্রহরী হওয়া সত্ত্বেও ক্যারিয়ারের এই মধ্যগগনেই তিনি ভাবছেন অবসরের কথা।
বর্তমানে ২৮ বছর বয়সি মাজরাউই একজন ডিফেন্ডার হিসেবে ক্যারিয়ারের সোনালি সময় পার করছেন। ক্লাব ফুটবল ও মরক্কো জাতীয় দলের রক্ষণভাগের অন্যতম অতন্দ্র প্রহরী হওয়া সত্ত্বেও ক্যারিয়ারের এই মধ্যগগনেই তিনি ভাবছেন অবসরের কথা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই তারকা ডিফেন্ডার জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপের পরই পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে তার। জীবনের পরবর্তী অধ্যায়টি সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করতে চান ধর্মীয় জ্ঞানার্জন ও আত্মিক উন্নয়নে।
মাজরাউইর মতে, ফুটবল ক্যারিয়ার তাকে খ্যাতি, অর্থ, ভালোবাসা এবং সাফল্য—সবকিছুই অকাতরে দিয়েছে। তবে জীবনের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন, আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতার জন্য তার আরও বেশি সময়ের প্রয়োজন।
মাজরাউইর মতে, ফুটবল ক্যারিয়ার তাকে খ্যাতি, অর্থ, ভালোবাসা এবং সাফল্য—সবকিছুই অকাতরে দিয়েছে। তবে জীবনের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন, আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতার জন্য তার আরও বেশি সময়ের প্রয়োজন।
সাক্ষাৎকারে নিজের সুপ্ত ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে এই মরক্কান তারকা বলেন যে, জীবনটা আসলে খুবই ছোট এবং তার অন্যতম বড় স্বপ্ন হলো সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করা ও ভবিষ্যতে একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করা।
ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে খেলতে থাকা কোনো তারকার কাছ থেকে ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে দাঁড়িয়ে এমন সিদ্ধান্ত সচরাচর দেখা যায় না। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে মরক্কোর সেমিফাইনালে ওঠার ঐতিহাসিক রূপকথার অন্যতম বড় কারিগর ছিলেন মাজরাউই।
ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে খেলতে থাকা কোনো তারকার কাছ থেকে ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে দাঁড়িয়ে এমন সিদ্ধান্ত সচরাচর দেখা যায় না। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে মরক্কোর সেমিফাইনালে ওঠার ঐতিহাসিক রূপকথার অন্যতম বড় কারিগর ছিলেন মাজরাউই।
তার এই অনন্য সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, সবার কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা ট্রফি বা ব্যক্তিগত রেকর্ডের ফ্রেমে বন্দি থাকে না; কারো কারো কাছে জীবনের পরম পাওয়া লুকিয়ে থাকে বিশ্বাস, জ্ঞান ও আত্মিক পূর্ণতার মাঝে।
সত্যি যদি মাজরাউই মাঠের ফুটবলকে বিদায় জানান, তাহলে ফুটবল বিশ্ব একজন দক্ষ ডিফেন্ডারকে হারাবে; কিন্তু ধর্মীয় ও নৈতিকতার আলো ছড়াতে শুরু হবে মিম্বারের এক নতুন ইনিংস।