বিশ্বকাপে পর্তুগালের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ের ম্যাচে নিষ্প্রভ ছিলেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। এরপরই তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে, এমনকি শুরুর একাদশ থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও তুলেছেন কেউ কেউ। তবে এসব আলোচনা উপেক্ষা করে দলকে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।
ম্যাচে শুরুতে জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। তবে বিরতির আগেই ইয়োয়ানে উইসার গোলে সমতায় ফেরে ডিআর কঙ্গো। দ্বিতীয়ার্ধে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ একাধিক পরিবর্তন আনলেও রোনালদোকে পুরো সময় মাঠে রাখেন। কিন্তু ম্যাচজুড়ে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি তিনি।
পরিসংখ্যান বলছে, পুরো ম্যাচে মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেন রোনালদো। তিনটি শট নিলেও কোনোটিই লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। তবুও এই ম্যাচে মাঠে নামার মাধ্যমে লিওনেল মেসির সঙ্গে টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোলসংখ্যা এখন ১৪৩, যা পর্তুগালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হতাশা নয়, বরং আশার কথাই শোনান রোনালদো। তিনি বলেন, শুরুটা তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়নি। তবে বিশ্বকাপ এখনো অনেক বাকি এবং ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে রোনালদোর ভূমিকা নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাব দিয়েছেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলদাতাকে মাঠের বাইরে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারদের উপস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। এরপর কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলবে ইউরোপের দলটি। নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে তাই সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে রোনালদো ও তার সতীর্থদের জন্য।