Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / স্বাস্থ্য / হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত ব্রিটিশ নাগরিককে সহায়তায় সেনাবাহিনীর প্যারাশুট অভিযান - Chief TV

হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত ব্রিটিশ নাগরিককে সহায়তায় সেনাবাহিনীর প্যারাশুট অভিযান - Chief TV

2026-05-11  আন্তর্জাতিক ডেস্ক  50 views
হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত ব্রিটিশ নাগরিককে সহায়তায় সেনাবাহিনীর প্যারাশুট অভিযান - Chief TV

ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর চিকিৎসক দল সন্দেহভাজন হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত এক ব্রিটিশ নাগরিককে সহায়তা করতে আটলান্টিক মহাসাগরের দূরবর্তী দ্বীপ ট্রিস্টান দা কুনহায় প্যারাশুটে অবতরণ করেছে।

রবিবার (১০ মে) বিবিসির এক প্রতিবেদন বলা হয়, আক্রান্ত ব্যক্তি একটি ক্রুজ জাহাজ এমভি হোনডিয়াসে ছড়িয়ে পড়া মারাত্মক হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় ওই জাহাজ ছেড়ে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে দ্বীপটিতে পৌঁছান। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম জনবসতিপূর্ণ ব্রিটিশ অঞ্চলে বসবাস করেন।

জাহাজ ছাড়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর তার মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়। বর্তমানে তিনি আইসোলেশনে থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন। এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ছয়টি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, যার মধ্যে দুইজন ব্রিটিশ নাগরিকও রয়েছেন, যারা জাহাজের বাইরে চিকিৎসাধীন।

শনিবার রয়্যাল এয়ার ফোর্সের একটি এ৪০০এম বিমান থেকে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়, কারণ দ্বীপটিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রায় শেষ হয়ে আসছিল বলে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়।

প্রায় এক মাস আগে এমভি হোনডিয়াসে জাহাজে প্রথম মৃত্যুর পর এটি স্পেনের টেনেরিফে পৌঁছায়, যেখানে ১০০ জনের বেশি যাত্রীকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ পর্যন্ত এই প্রাদুর্ভাবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে দুইজনের হান্টাভাইরাস নিশ্চিত করা হয়েছে।

হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ায়। সাধারণত এটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না, তবে আন্দেস স্ট্রেইন নামের একটি ধরন সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা ওই ক্রুজ জাহাজের যাত্রীদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, ট্রিস্টান দা কুনহায় থাকা ওই ব্রিটিশ ব্যক্তি ১৪ এপ্রিল জাহাজ ছাড়েন। পরে ২৮ এপ্রিল তার ডায়রিয়া এবং দুদিন পর জ্বর দেখা দেয়।

এই পরিস্থিতিতে ১৬ এয়ার অ্যাসল্ট ব্রিগেডের ছয়জন প্যারাট্রুপার এবং দুইজন চিকিৎসক ওই দ্বীপে পাঠানো হয়। ট্রিস্টান দা কুনহা দক্ষিণ আটলান্টিকের একটি অত্যন্ত দুর্গম দ্বীপপুঞ্জ, যেখানে মাত্র ২২১ জন মানুষ বাস করে এবং কোনো বিমানবন্দর নেই—শুধু নৌকায় যাতায়াত সম্ভব।

এবার নৌপথ ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি, কারণ রোগীর অক্সিজেন দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছিল। তাই ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বিমান থেকে প্যারাশুটে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শক্তিশালী বাতাসের কারণে এটি ছিল অত্যন্ত কঠিন একটি অভিযান।

সেনারা প্রায় ৫ কিলোমিটার উচ্চতা থেকে লাফ দেন এবং দ্বীপের প্রান্তে অবতরণ করেন। সেখানে সাধারণত মাত্র দুইজনের চিকিৎসা দল থাকে, কিন্তু এবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ সহায়তা পাঠানো হয়।

দ্বীপে প্রায় ৩.৩ টন চিকিৎসা সরঞ্জামও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, এটি শুধু একজন রোগীকে সহায়তা নয়, বরং পুরো দ্বীপের জনগণকে নিরাপদ রাখতে একটি জরুরি মানবিক অভিযান।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এই অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের সাহস ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন। রোগীর চিকিৎসা পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরে তাদের নিরাপদে নৌপথে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সরকার জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত কম।
 


Share: