Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / জাতীয় / পরিবেশগত সংকট তুলে ধরে কড়াইল লেকপাড়ে বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট পালন

পরিবেশগত সংকট তুলে ধরে কড়াইল লেকপাড়ে বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট পালন

2026-05-08  ডেস্ক রিপোর্ট  34 views
পরিবেশগত সংকট তুলে ধরে কড়াইল লেকপাড়ে বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট পালন

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে পালিত হচ্ছে 'বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট'। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীর কড়াইল লেকের ‘রিওয়েট প্রজেক্ট’ এলাকায় সমবেত হয়ে নিজেদের উদ্বেগ ও দাবি জানিয়েছেন দেশের একদল তরুণ জলবায়ু কর্মী ও পরিবেশবাদী সংগঠন।

প্রচেস্টা ফাউন্ডেশন, সেইভ ফিউচার বাংলাদেশ, আমরাই আগামী, সিডার ইনিশিয়েটিভ, ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশ এবং হেল্প দ্যা নেশন-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। কড়াইল বস্তিতে বসবাসরত বাস্তুচ্যুত মানুষের পরিবেশগত সংকট এবং গুলশান-বনানী লেকের দূষণ প্রতিরোধে সরকারি উদাসীনতার বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার হন।

ধর্মঘটে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ কড়াইলের মতো ইনফর্মাল সেটেলমেন্টে বসবাস করছে। সেখানে সাধারণ নাগরিক সুবিধা যেমন- নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক।

পরিবেশগত সংকট তুলে ধরে কড়াইল লেকপাড়ে বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট পালন 1 - Chief TV

বক্তারা অভিযোগ করেন, গুলশান-বনানী লেকের দূষণের উৎসগুলো চিহ্নিত থাকলেও তা সমাধানে কোনো পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেই। উল্টো লেক পরিষ্কারের নামে বারবার লেকপাড়ের গাছপালা ও সবজি ক্ষেত মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ‘রিওয়েট প্রজেক্ট’ এবং ‘৫৫ কদমতলা’ উদ্যোগের বাগান ও নগর আবাদের একাংশ মাটি ফেলে নষ্ট করার তীব্র নিন্দা জানান তারা।

প্রচেস্টা ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো: রাকিবুল ইসলাম বলেন- "নবায়নযোগ্য শক্তিই আমাদের ভবিষ্যৎ। কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক জ্বালানির ওপর নির্ভরতার কারণে আমরা অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সরকারকে এখনই নতুন করে ভাবতে হবে, নয়তো সামনে আরও ভয়াবহ সময় অপেক্ষা করছে।"

সেইভ ফিউচার বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক নয়ন সরকার বলেন- "উন্নয়নের নামে আমরা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হতে দেখছি। সরকারের প্রতি আমাদের দাবি- সবার আগে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিন। কড়াইলবাসীর সকল নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করুন এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে লেক দূষণমুক্ত করুন। আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হওয়া ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচার চাই।"

সিডার ইনেশিয়েটিভ-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা শরাফত করিম বলেন- "জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফসিল ফুয়েলের বিকল্প নেই। সরকারকে একটি সুনির্দিষ্ট 'রিনিউয়েবল এনার্জি রোডম্যাপ' প্রণয়ন করতে হবে। সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের প্রসারই পারে একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়তে।"

ধর্মঘট থেকে তরুণ জলবায়ু কর্মীরা সরকারের কাছে ১০টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেন-

1. জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধ করে দ্রুত নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া।
2. জলবায়ু শরণার্থীদের টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
3. পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির স্থায়ী সমাধান।
4. উপকূলে টেকসই ব্লক বাঁধ নির্মাণ ও বনায়ন করা।
5. উপকূলীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ।
6. একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (Single-use Plastic) নিষিদ্ধ করা।
7. পানি, শব্দ ও বায়ু দূষণ রোধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা।
8. পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো প্রকল্প গ্রহণ না করা।
9. পাহাড়, বনাঞ্চল, বন্যপ্রাণী এবং জলাশয় রক্ষা ও পুনরুদ্ধার করা।
10. দেশের সকল খাল ও নদী দূষণমুক্ত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া।

বক্তারা মনে করিয়ে দেন যে, বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম এবং পরিবেশ দূষণে দেশে মৃত্যুর হার ৩২ শতাংশ। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অবিলম্বে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প নেই।


Share: