জয়পুরহাট সদর উপজেলার আউশগাড়া ইনরাপাড়া গ্রামে ‘আর্জেন্টিনা বাড়ি’ নামে পরিচিত একটি বাড়িকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে লিউনেল মেসি-র হ্যাটট্রিকের পর স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা বাড়িটির সামনে জড়ো হয়ে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়িটির মালিক মেহেদী হাসান দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল ও লিউনেল মেসি-র একনিষ্ঠ সমর্থক। তার বাড়ির চারপাশ নীল-সাদা রঙে রাঙানো হয়েছে আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে আঁকা রয়েছে মেসির একাধিক প্রতিকৃতি, যা এলাকাবাসীর কাছে বাড়িটিকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
বুধবার সকাল থেকে বাড়িটির সামনে স্থানীয় কিশোর-যুবক ও ফুটবলপ্রেমীদের ভিড় বাড়তে থাকে। মেসির হ্যাটট্রিক উদ্যাপন উপলক্ষে সেখানে ফুটবল খেলা, আনন্দ-আয়োজন ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
মেহেদী হাসান জানান, ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে তিনি নিয়মিত নিজের বাড়িতে আর্জেন্টিনার পতাকা টানিয়ে আসছেন। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে তিনি পুরো বাড়ি আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে রঙ করেন। এবারের বিশ্বকাপেও সেই ধারাবাহিকতায় বাড়িটিকে নতুনভাবে সাজিয়েছেন।
তিনি বলেন, “মেসির হ্যাটট্রিক আমাকে অনেক আনন্দ দিয়েছে। সেই আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য অর্ধশতাধিক জার্সি উপহার দিয়েছি এবং খাবারের আয়োজন করেছি।”
স্থানীয় কিশোর রিতাফ আহম্মদ বলেন, মেসির তিন গোলের পর এলাকায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। বাড়িটি এখন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আনিছুর রহমান বলেন, ফুটবলের প্রতি এমন ভালোবাসা এবং দলকে ঘিরে এমন আবেগ খুব কমই দেখা যায়। মেহেদী হাসানের এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপের শুরুতেই লিউনেল মেসি-র দারুণ পারফরম্যান্স এবং জয়পুরহাটের এই ব্যতিক্রমী সমর্থন এখন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।