খুলনায় আদালত চত্বরে ফটকের সামনের সড়কে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী হাসিব হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি রাজন হত্যায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ রিপন (৩২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বিলুপ্ত ‘ইহুদি’ বাহিনীর শীর্ষ সদস্য বলে জানায় পুলিশ।
তবে জোড়া হত্যার ঘটনায় এখনও মামলা দায়ের না হওয়ায় ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। রিপন রূপসা মাছ গলির জলিলের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাই।
তিনি বলেন, ‘সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর নতুন বাজার চর স্কুল গলি থেকে রিপনকে আটক করা হয়। যেহেতু এখনো হত্যা মামলা দায়ের হয়নি, সে কারণে রিপনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলা হলে তাকে ওই মামলায় সম্পৃক্ত করে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যেই ভিডিও ফুটেজ দেখে কয়েকজন খুনিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
এসআই আরও বলেন, “রিপন ‘ইহুদি’ বাহিনীর শীর্ষ পাঁচজনের একজন। ২০০৩ সালে ইহুদি বাহিনী বিলুপ্ত হয়। তবে এই সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা অন্য গ্রুপে গিয়ে অপরাধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে।’
উল্লেখ্য, গত রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে খুলনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান গেটের সামনের সড়কে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় হাসিব হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি রাজনকে। তারা খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ বাহিনীর সদস্য।
এই জোড়া হত্যার সঙ্গে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী রনি চৌধুরী বাবু ওরফে গ্রেনেড বাবুর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। ঘটনার পরপর চারটি কারণ সামনে রেখে পুলিশ তদন্ত করছে।
আলোচিত এই জোড়া হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বিকেল পর্যন্ত থানায় মামলা দায়ের হয়নি।
এ বিষয়ে খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাসিব হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি রাজন হত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা করতে আসেনি। তবে আশা করছি, রাতে মামলা হবে। তারপরও আমরা দু-এক দিন অপেক্ষা করব, এর মধ্যে পরিবার মামলা না দিলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে। আমরা চেষ্টা করছি খুনিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার।’