খুলনার পাইকগাছায় স্ত্রীর সামনে অশোভনভাবে প্রস্রাব করতে বসার প্রতিবাদ করায় হাসান সরদার নামে পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী এক যুবককে দফায় দফায় নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার বিকেলে উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের কালিদাসপুর গ্রামে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। নিহত হাসান ওই গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের চাচা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে পাইকগাছা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে হাসানের স্ত্রীর সামনেই প্রকাশ্য স্থানে প্রস্রাব করতে বসেন স্থানীয় খালেক গাজীর ছেলে কুদ্দুস গাজী। হাসান নিজের স্ত্রীর সামনে এমন অশোভন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে হাসানের স্ত্রীর সামনেই প্রকাশ্য স্থানে প্রস্রাব করতে বসেন স্থানীয় খালেক গাজীর ছেলে কুদ্দুস গাজী। হাসান নিজের স্ত্রীর সামনে এমন অশোভন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
এই প্রতিবাদ করার অপরাধে পাইকগাছা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক নাজমুল হুদা মিন্টুর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী প্রকাশ্য জনসম্মুখে হাসানের ওপর চড়াও হয় এবং তাকে প্রথম দফায় ব্যাপক মারপিট করে আহত করে।
এর এক-দেড় ঘণ্টা পর হাসান কিছুটা সুস্থ হলে তার ওপর দ্বিতীয় দফায় নির্যাতন চালানো হয়, যার একপর্যায়ে তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়েন। এখানেই শেষ নয়, সন্ধ্যার পর হাসানের জ্ঞান ফিরলে আবারও হাতুড়ি, ইট এবং দরজার হাক (হিল্ট/খিল) দিয়ে পিটিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়।
সবশেষে এশার নামাজের পর মুমূর্ষু হাসানকে একটি থ্রিহুইলারে (নসিমন) দড়ি দিয়ে বেঁধে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান অভিযুক্ত মিন্টু ও তাঁর সঙ্গীরা। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নয়ন কুমার সরকার জানান, হাসপাতালে আনার অনেক আগেই হাসানের মৃত্যু হয়েছিল। এদিকে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা নাজমুল হুদা মিন্টু মারপিটের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন, হাসান একজন মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন এবং ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ‘গণধোলাই’ দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।
সবশেষে এশার নামাজের পর মুমূর্ষু হাসানকে একটি থ্রিহুইলারে (নসিমন) দড়ি দিয়ে বেঁধে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান অভিযুক্ত মিন্টু ও তাঁর সঙ্গীরা। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নয়ন কুমার সরকার জানান, হাসপাতালে আনার অনেক আগেই হাসানের মৃত্যু হয়েছিল। এদিকে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা নাজমুল হুদা মিন্টু মারপিটের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন, হাসান একজন মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন এবং ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ‘গণধোলাই’ দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।
তিনি কেবল রাতে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে পাইকগাছা থানার উপপুলিশ পরিদর্শক আ. আজিজ জানিয়েছেন, লাশের সুরতহাল রিপোর্টে নিহতের মাথা, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানান, এজাহার পাওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।