গাছের শিকরে মাথায় আঘাতের কারণে মায়ের মৃত্যুর দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ছেলে মাজহারুল ইসলাম জুয়েল (৪৫)। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ বড়ভিটা ইউনিয়নের ময়দানপাড়ার বৃদ্ধা মা মারুফাকে (৬০) হত্যা করে আত্বগোপনে চলে যান তিনি।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ লুৎফর রহমান গত ২৭ জুন বিকালে তার কার্যালয়ে আলোচিত ‘মা’ হত্যাকান্ডের সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের বলেন, গত ৩ জুন কিশোরগঞ্জ দিবাগত রাতে একই উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ময়দানপাড়ায় ঘড়ের মেঝে খুঁড়ে বৃদ্ধা মারুফার (৬০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে সন্দেহভাজন বৃদ্ধার বড় ছেলে মাজহারুল ইসলাম জুয়েলকে সাভারের আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার করে ২৫ জুন আদালতে পাঠালে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে তিনি একাই হত্যার দায় স্বীকার করেন।
তার জবানবন্দী জানা যায়, গত ৩১ মে’ ২০২৬ তারিখে পারিবারিক ঝগড়ায় ছোট ছেলে লাভিনের(৩৭) পক্ষ নিলে বড় ছেলে জুয়েলের ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এর পর জুয়েলের স্ত্রী তার সন্তানকে নিয়ে বাপেরবাড়ী ও ছোট ভাই লাভিন তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে স্বশুরবাড়ী চলে যান।
১ জুন’ ২০২৬ তারিখে বৃদ্ধা মা তার শোয়ার ঘড়ে দিনের বেলা ঘুমিয়েছিলেন। মাকে একাই পেয়ে জুয়েল তার ক্ষোভ মিটাতে গাছের শিকর দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করেন । পরে জুয়েল বাজারে চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে যায়। বিকালে বাড়ীতে এসে মায়ের মৃত্যুদেহ দেখে ঘড়ের মেঝের মধ্যে মাকে পুতে রাখেন।
লাভিন গত ৩ জুন বাড়ীতে এসে মায়ের বিছানায় রক্তদাগ ও মাটির মেঝে ফুলে উঠায় সন্দেহ হলে থানায় সংবাদ দেয়। কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ ওই দিনেই রাতে মেঝে থেকে তার মায়ের লাশ উদ্ধার করে পরের দিন মর্গে পাঠিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ থানায় ছোট ছেলে লাভিন বাদী ৪ জুন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।