কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মায়ের মৃত্যুর খবর সহ্য করতে না পেরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আবু বাক্কার ছিদ্দিক (৩৫) নামে এক যুবকের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের অগ্রেরকোনা গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের মৃত হারিছ মিয়ার স্ত্রী জুলেখা খাতুন (৬৫) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে মারা যান।
মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকায় সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত ছেলে আবু বাক্কার ছিদ্দিক দ্রুত বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। মানসিক চাপ সহ্য করতে পারবেন না ভেবে পরিবার থেকে তাকে সরাসরি মৃত্যুর খবর না দিয়ে মায়ের অসুস্থতার কথা বলে দ্রুত আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু বিকেলে বাড়ি পৌঁছে মায়ের মরদেহ দেখামাত্রই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
তাৎক্ষণিকভাবে স্বজনরা তাকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং পরে ইসিজি করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারিয়ে দুই সন্তান নিয়ে এখন অথৈ সাগরে পড়েছেন স্ত্রী শরিফা আক্তার। একই রাতে মা জুলেখা খাতুনের জানাজা এবং পরদিন শুক্রবার সকালে ছেলে আবু বাক্কার ছিদ্দিকের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মা ও ছেলেকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।