কিশোরগঞ্জে বিএনপির মিছিলে হামলা: সাবেক ওসিসহ ১৪ পুলিশ ও আ.লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ২০২২ সালে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় পাকুন্দিয়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ার জাহান ও পরিদর্শক নাহিদ হাসান সুমনসহ ১৪ জন পুলিশ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৩২ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭০ থেকে ৮০ জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।
গত ২৪ মে পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাজহারুল হক উজ্জল বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। আদালত পাকুন্দিয়া থানা পুলিশকে এজাহারটি নিয়মিত মামলা (এফআইআর) হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিএনপির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ওসি সারোয়ার জাহানের সরাসরি নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এ সময় পুলিশের পাশাপাশি লাঠিসোটা, ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলায় অংশ নেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
হামলায় পুলিশের রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও ছররা গুলির স্প্লিন্টারে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে শ্রাবণ নামের এক কর্মীর শরীরে একাধিক ছররা গুলি লাগে এবং জলিল নামে অন্য এক কর্মীর একটি চোখ চিরতরে অন্ধ হয়ে যায়।
মামলার বাদী মো. মাজহারুল হক উজ্জল অভিযোগ করেন, তৎকালীন ওসি সারোয়ার জাহান নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা দাবি করতেন এবং শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দিতেন না। তার মেয়াদে পাকুন্দিয়ায় বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী চরম নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। দেরিতে হলেও ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় তিনি এই মামলাটি দায়ের করেছেন বলে জানান।