Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / আন্তর্জাতিক / মৃত্যুর আগে সুরেশ বলেছিলেন, ‘আমি নিরাপদে ফিরব’ - Chief TV

মৃত্যুর আগে সুরেশ বলেছিলেন, ‘আমি নিরাপদে ফিরব’ - Chief TV

2026-06-13  ডেস্ক রিপোর্ট  35 views
মৃত্যুর আগে সুরেশ বলেছিলেন, ‘আমি নিরাপদে ফিরব’ - Chief TV
ওমান উপসাগরের বুকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকস্মিক হামলায় একটি তেলবাহী জাহাজে থাকা তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার পর তাঁদের পরিবারগুলোতে এখন চলছে মাতম।
 
নিহতদের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের বাসিন্দা ও জাহাজের প্রধান প্রকৌশলী পাটনালা সুরেশ (৪৫), হিমাচল প্রদেশের ২৩ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান আদিত্য শর্মা এবং উত্তরপ্রদেশের ৩৫ বছর বয়সী শিবানন্দ চৌরাসিয়া রয়েছেন।
 
গত বুধবার ওমান উপসাগরে 'এমটি সেত্তেবেলো' নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনী এই হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজটি ইরান-সংশ্লিষ্ট তেল বহন করছিল এবং বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও তা অমান্য করে।
 
তবে জাহাজ পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ মার্কিন এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ইরানের সাথে জাহাজের কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং হামলার পূর্বে কোনো ধরনের সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়নি। হামলার পর ওই জাহাজ থেকে ২১ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এই তিন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারান।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও কূটনীতির হিসাব-নিকাশ ছাপিয়ে নিহতদের পরিবারে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা ও গভীর শোকের ছায়া। ১৫ বছর ধরে সমুদ্রে কর্মরত পাটনালা সুরেশের স্ত্রী ভার্গবী অশ্রুসিক্ত চোখে জানান, আর কয়েকদিন পরেই তাঁদের ১৫তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের কথা ছিল এবং সুরেশ নিরাপদে বাড়ি ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
 
কিন্তু জেনারেটরের ত্রুটি পরীক্ষা করার সময় আকস্মিক হামলায় সুরেশ নিহত হন, যার ওপর পুরো পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা নির্ভর করত। একই ধরনের বুকফাটা আর্তনাদ চলছে হিমাচলের রাজেশ শর্মার বাড়িতে, যিনি তাঁর একমাত্র সন্তান আদিত্যকে হারিয়েছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন যে অন্যদের বাঁচানো গেলেও তাঁর ছেলেকে কেন বাঁচানো গেল না।
 
উত্তরপ্রদেশের রামজি চৌরাসিয়াও তাঁর সন্তান শিবানন্দকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ।

এদিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভারত সরকার ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটনে কড়া বার্তা পাঠিয়েছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
 
ভারতের জাহাজ পরিবহনমন্ত্রী সর্বনন্দ স্যান্যায়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) গভীর শোক প্রকাশ করে এই ঘটনাকে ভারতের সামুদ্রিক খাতের জন্য একটি 'গভীর ক্ষতি' বলে উল্লেখ করেছেন। একই সাথে তিনি নিহত নাবিকদের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে পরিবারগুলোকে আশ্বস্ত করেছেন।
 
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করলেও, স্বজনহারা পরিবারগুলোর কাছে এখন বড় রাজনৈতিক বিবৃতির চেয়ে শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখটি দেখাই সবচেয়ে বড় আকুতি।

Share: