Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / ময়মনসিংহ বিভাগ / সারাদেশ / নেত্রকোনা / প্রথম বিয়ে গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে, ছাত্রদল নেতাকে গণধোলাই - Chief TV

প্রথম বিয়ে গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে, ছাত্রদল নেতাকে গণধোলাই - Chief TV

2026-06-13  ডেস্ক রিপোর্ট  27 views
প্রথম বিয়ে গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে, ছাত্রদল নেতাকে গণধোলাই  - Chief TV
প্রথম বিয়ের তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রেখে ধুমধাম করে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে কনে পক্ষের লোকজনের হাতে অবরুদ্ধ হয়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন সাব্বির আহমেদ সাদান নামের এক ছাত্রদল নেতা।
 
শুক্রবার রাতে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সোনাকান্দা গ্রামে এই নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত সাব্বির আহমেদ সাদান নেত্রকোনার মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি এবং মদন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান আজাদের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে প্রতিবেশী ধনাই মিয়ার মেয়ে আয়মনা আক্তারকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন সাদান। বিয়ের পর থেকে তারা গোপনভাবেই সংসার চালিয়ে আসছিলেন।
 
তবে প্রথম বিয়ের বিষয়টি পুরোপুরি চেপে গিয়ে সম্প্রতি তিনি উপজেলার পাইকুরা ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি শাজাহান মিয়ার মেয়ের সাথে বিয়ের সম্বন্ধ ঠিক করেন। শুক্রবার রাতে যথারীতি বিশাল বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে হাজির হন সাদান।
 
কিন্তু বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে সাদানের প্রথম শ্বশুর ধনাই মিয়া কনে পক্ষকে মুঠোফোনে সাদারেন আগের বিয়ের সব প্রমাণসহ বিষয়টি জানিয়ে দেন।
 
এই প্রতারণার খবর পাওয়া মাত্রই কনে পক্ষের লোকজন চরম ক্ষিপ্ত হয়ে বর সাদানসহ বরযাত্রীদের একটি কক্ষে আটকে রেখে গণধোলাই দেয়। পরে স্থানীয় মাতব্বরদের উপস্থিতিতে কয়েক দফা রুদ্ধদ্বার সালিশ বৈঠক শেষে নগদ ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে মধ্যরাতে মুক্তি পান ওই ছাত্রদল নেতা।

তবে ঘটনার এখানেই শেষ নয়; এই অপমানের প্রতিশোধ নিতে জরিমানা দিয়ে ছাড়া পেয়েই শনিবার সকালে প্রথম স্ত্রী আয়মনা আক্তারের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দলবল নিয়ে তান্ডব ও হামলা চালায় সাদানের লোকজন।
 
এ সময় হামলাকারীদের মারধরে আয়মনার বড় বোন সুমনা আক্তার গুরুতর আহত হলে তাঁকে দ্রুত মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ভুক্তভোগী পরিবারটি তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল করে সাহায্য চাইলে মদন থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এই বিষয়ে কনের বাবা ও ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি শাহাজান মিয়া বলেন, ‘ছেলে যে আগে আরেকটি বিয়ে করেছে, তা আমাদের জানা ছিল না। জেনেশুনে তো আর কোনো বাবা তাঁর মেয়েকে বিবাহিত ছেলের হাতে তুলে দিতে পারেন না।’ তবে জরিমানা আদায়ের বিষয়টি তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।
 
অন্যদিকে সাদানের বাবা বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘আমার ছেলে আগে একটা বিয়ে করেছিল সেটা আমাদের জানা ছিল না। আগে জানলে তো আর আজ ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে ইজ্জত বাঁচাতে হতো না।’
 
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) অসীম কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নারীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পরবর্তী কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share: