Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / রাজশাহী বিভাগ / সারাদেশ / পাবনা / পাবনায় কিশোরী হত্যার রহস্য ৫ ঘণ্টায় উদঘাটন, প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩ - Chief TV

পাবনায় কিশোরী হত্যার রহস্য ৫ ঘণ্টায় উদঘাটন, প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩ - Chief TV

2026-06-04  ডেস্ক রিপোর্ট  48 views
পাবনায় কিশোরী হত্যার রহস্য ৫ ঘণ্টায় উদঘাটন, প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩ - Chief TV
পাবনায় পদ্মা নদীর তীরে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা এক কিশোরী হত্যার রহস্য মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি লাশ গুমে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রেজিনূর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
 
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো—পাবনা শহরের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মৃত কাশেম প্রামানিকের ছেলে ও হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা মো. নাঈম, মো. শফিক শেখের ছেলে মো. ইয়াসিন শেখ এবং মো. শিমুল প্রামানিকের ছেলে মো. তুহিন প্রামানিক।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, নিহত কিশোরীর নাম রিয়া খাতুন। সে পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মো. আজিজুল প্রামানিকের মেয়ে এবং স্থানীয় মাওলানা কাসিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান জানান, প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং আর্থিক লেনদেনের বিরোধের জেরে রিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত রিয়া খাতুনের সাথে তার চাচাতো ভাই নাঈমের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
 
ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে রিয়া প্রেমিক নাঈমের বাসায় বেড়াতে যায়। সেখানে দুজনের মধ্যে কথাবার্তার একপর্যায়ে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে নাঈম ধারালো চাকু দেখিয়ে রিয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দিতে নাঈম তার সহযোগী ইয়াসিন ও তুহিনকে ডেকে এনে রিয়ার মরদেহ একটি বস্তায় ভরে সাদা রঙের প্রাইভেটকারে তুলে পদ্মা নদীর তীরে ফেলে রেখে আসে।

এর আগে বুধবার সকাল ১০টার দিকে সদরের ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর পীরপুর-সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীর থেকে ভাসমান অবস্থায় হাত বাঁধা এবং গলায় বাজারের ব্যাগ প্যাঁচানো অবস্থায় বস্তাবন্দি এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পরপরই পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহর নির্দেশনায় জেলা পুলিশের একাধিক টিম ছায়া তদন্তে নামে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের শনাক্ত করতে থানা পুলিশ, ডিবি এবং ডিএসবি সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।
 
পরবর্তীতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তি ও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি নাঈম ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের কাজে ব্যবহৃত সাদা রঙের প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়। পাবনা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ করা না হলেও গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

Share: