Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / জাতীয় / পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে বাবা-মায়ের অশ্রুসিক্ত সাক্ষ্যগ্রহণ-Chief TV

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে বাবা-মায়ের অশ্রুসিক্ত সাক্ষ্যগ্রহণ-Chief TV

2026-06-02  ডেস্ক রিপোর্ট  30 views
পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে বাবা-মায়ের অশ্রুসিক্ত সাক্ষ্যগ্রহণ

ঢাকা: রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর বর্বরোচিত হত্যার মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে নিহতের বাবা ও মায়ের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মায়ের আকুতি ও আসামি শনাক্তকরণ
সকাল ১০টা ৩৫ মিনিট থেকে ১১টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত চলা এই শুনানিতে রামিসার মা পারভীন আক্তার আদালতে ঘটনার দিনের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। সাক্ষ্যগ্রহণের একপর্যায়ে আদালতকক্ষে উপস্থিত মামলার আসামি স্বপ্না আক্তারকে দেখিয়ে শনাক্ত করতে বলা হলে, পারভীন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন:

‘হ্যাঁ, ওরে কত বলি বোন দরজাটা খোল, কিন্তু সে খোলেনি।’
পারভীন আক্তার জানান, ঘটনার দিন (১৯ মে) তিনতলার ওই ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিলেও ভেতর থেকে কেউ দরজা খোলেনি। দরজার বাইরে মেয়ের জুতো দেখে সন্দেহ হলে তিনি লোক জড়ো করেন। পরে লক ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা দেখতে পান রামিসার খণ্ডিত মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। আর সেই রক্তাক্ত ঘরের ভেতরে আসামি স্বপ্না আক্তার পায়চারি করছিলেন।

বাবার জবানবন্দিতে ঘটনার নৃশংস বিবরণ
শারীরিক অসুস্থতার কারণে আদালতের অনুমতিতে চেয়ারে বসে প্রথমে সাক্ষ্য দেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। তিনি জানান, ১৯ মে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে অফিসে পৌঁছানোর পরপরই স্ত্রীর ফোন পেয়ে তিনি দ্রুত বাসায় ছুটে আসেন।

বাসার সামনে লোক জড়ো হতে দেখে তিনি নিচ থেকে হাতুড়ি এনে প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টা করে দরজার লক ভাঙেন। ঘটনার নৃশংসতার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, "কমন রুম খুলে দেখি শুধু রক্ত আর রক্ত।" তিনি ঘরের ভেতরে রক্তের ওপর স্বপ্না খাতুনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন এবং স্টিলের খাটের নিচে রামিসার লাশ ও একটি বালতির ভেতর খণ্ডিত মাথাটি দেখতে পান।

পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
রামিসার বাবা-মায়ের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলার ৩ নম্বর সাক্ষী ও রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তারের অপ্রাপ্ত বয়স ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে তার সাক্ষ্য ক্লোজড ডোর বা 'ক্যামেরায়' নেওয়ার আবেদন করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

এ ছাড়া, প্রধান আসামি সোহেল রানা কাস্টডিতে থাকা অবস্থায় বাইরে বা মিডিয়ার সামনে কথা বলা নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আপত্তি জানালে, আদালত পুলিশকে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধারের পর ২০ মে তার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গত ১ জুন এই মামলার দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। মামলায় মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
 
 
 

 

Share: