Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / বিনোদন / সালমান শাহ হত্যা মামলায় ফের তদন্ত সংস্থা বদল - Chief TV

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ফের তদন্ত সংস্থা বদল - Chief TV

2026-01-13  ডেস্ক রিপোর্ট  94 views
সালমান শাহ হত্যা মামলায় ফের তদন্ত সংস্থা বদল - Chief TV

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে অবশেষে হত্যা মামলা রুজু হয়। ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর প্রয়াত নায়কের মামা আলমগীর কুমকুম এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। তবে মামলা দায়েরের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কার্যক্রম এখনো গতি পায়নি।

তদন্তের শুরু, কিন্তু অগ্রগতি নেই

মামলাটি দায়েরের পর প্রাথমিকভাবে রমনা থানার ইন্সপেক্টর আতিকুল আলম খন্দকার তদন্তের দায়িত্ব পান। তবে নির্দিষ্ট কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তিন মাস পর মামলার তদন্তভার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ শেষে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হবে।

রমনা থানার প্রাথমিক তদন্ত কর্মকর্তা আতিকুল আলম খন্দকার বলেন, এই মামলায় সামিরা হক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসামি। তাকে আটক করা গেলে বহু প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারত। বর্তমানে সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোরশেদ মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

আসামিদের অবস্থান

মামলার এজাহারে যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন—সামিরা হক (সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী), লতিফা হক লুসি (শাশুড়ি), বিতর্কিত ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, অভিনেতা মোহাম্মদ আশরাফুল হক ওরফে ডন (ডেভিড), জাভেদ, ফারুক, রেজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ, রাবেয়া সুলতানা ওরফে রুবি, আ. ছাত্তার ও সাজু।

এর মধ্যে আজিজ মোহাম্মদ ভাই থাইল্যান্ডে, রেজভী আহমেদ লন্ডনে এবং রুবি বিদেশে অবস্থান করছেন। সামিরা হক, লতিফা হক ও ডন বর্তমানে দেশে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালালেও এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

অপমৃত্যু থেকে হত্যা মামলা

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় ধরে ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে বিবেচিত ছিল। পুলিশ ও সিআইডি দুই দফা তদন্তে এটিকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেয়।

তবে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তার আবেদনের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর আদালত মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে রূপান্তরের নির্দেশ দেন। পরদিন ২১ অক্টোবর দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

স্বীকারোক্তি ও বিতর্কিত তথ্য

২০১৭ সালে ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রাবেয়া সুলতানা ওরফে রুবি সালমান শাহ হত্যার অভিযোগ তোলেন। ওই সময় রুবি ছিলেন একজন বিউটিশিয়ান এবং সালমান শাহর প্রতিবেশী ও তার স্ত্রী সামিরার ঘনিষ্ঠ। এই মামলায় তিনি ৮ নম্বর আসামি।

এর আগে রেজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ নামের এক যুবক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে দাবি করেছিলেন, ডনের নেতৃত্বে একটি দল ওই রাতে সালমান শাহর বাসায় যায়। তার ভাষ্যমতে, নিচতলার দরজা খুলে দিয়েছিলেন রুবি এবং সেখান থেকে আজিজ মোহাম্মদ ভাই হত্যাকারীদের সঙ্গে যোগ দেন।

দীর্ঘ আইনি লড়াই

সালমান শাহর মৃত্যুর পর প্রথমে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি হত্যার অভিযোগে মামলাটি রূপান্তরের আবেদন জানান। আদালতের নির্দেশে তখন সিআইডি তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর প্রতিবেদন দেয়, যেখানে আত্মহত্যার কথাই পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে পরিবার রিভিশন আবেদন করে। ২০০৩ সালে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালে সেই তদন্ত প্রতিবেদনেও হত্যার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে সালমান শাহর বাবার মৃত্যুর পর মা নীলা চৌধুরী মামলার দায়িত্ব নেন। ২০১৫ সালে তিনি বিচার বিভাগীয় প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেন এবং ১১ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর র‌্যাব তদন্ত শুরু করলেও রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তিতে ২০১৬ সালে র‌্যাবকে তদন্ত বন্ধের নির্দেশ দেন আদালত। পরে পিবিআই তদন্ত করে ২০২০ সালে আবারও হত্যার কোনো প্রমাণ পায়নি বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।

২০২১ সালে পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন। এরপরও সালমান শাহর পরিবার হাল ছাড়েনি। ২০২২ সালে মহানগর দায়রা জজ আদালতে নতুন করে রিভিশন আবেদন গৃহীত হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে ২০২৫ সালে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নতুন মোড় নেয়।

রহস্য এখনও অমীমাংসিত

বর্তমানে মামলাটি সিআইডির হাতে থাকলেও তদন্ত কার্যক্রম এখনও কার্যকরভাবে শুরু হয়নি। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক চলছেই। আত্মহত্যা না কি পরিকল্পিত হত্যা—এই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর এখনো মেলেনি।

বাংলা চলচ্চিত্রের এক সময়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মৃত্যু আজও রহস্যে ঘেরা। নতুন তদন্ত এই দীর্ঘস্থায়ী অন্ধকার ভেদ করে সত্যের মুখ উন্মোচন করতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


Share: