Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / রংপুর বিভাগ / সারাদেশ / গাইবান্ধা / গাইবান্ধায় ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত শায়রা কে বাঁচাতে বাবা-মায়ের আকুতি, - Chief TV

গাইবান্ধায় ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত শায়রা কে বাঁচাতে বাবা-মায়ের আকুতি, - Chief TV

2026-06-24  হৃদয় খান, বিনোদন প্রতিবেদকঃ  58 views
গাইবান্ধায় ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত শায়রা কে বাঁচাতে বাবা-মায়ের আকুতি, - Chief TV

৫ বছর বয়সী অবুঝ শিশু শায়রা। জন্মের কয়েক মাস পর থেকে তার মাথায় ধরা পড়ে মরণব্যাধি ব্রেন টিউমার। তার অপারেশনের খরচ যোগাতে সমাজের বিত্তবান শ্রেনীর লোকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন স্বজনরা। কন্যাশিশু শায়রা গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ মন্দুয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রী আব্দুস সামাদের মেয়ে।

২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে আব্দুস সামাদ-মোমেনা দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় শায়রা। জন্মের কয়েকমাস পরে তার চোখে দেখা দেয় ফোঁড়া। একসময় সেই ফোড়া বড় হয়ে পুরো চোখ ঢেকে রাতদিন চব্বিশ ঘন্টা পড়তে থাকে রক্ত ও পুজ।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা- নিরীক্ষা শেষে ধরা পরে ব্রেন টিউমার। দেড় শতক ভিটে মাটি ছাড়া কোনো জমি জমা না থাকায় মেয়ের চিকিৎসা খরচ চালাতে গিয়ে গরু -ছাগল বিক্রি করে ও প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার ঋণ হয়েছে দিনমজুর আব্দুস সামাদের। তাকে দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ দেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা। এতে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার প্রয়োজন। দিনমজুর বাবার পক্ষে এত টাকা বহন করা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে শিশুটির বাবা-মা আব্দুস সামাদ ও মোমেনা দম্পতি বলেন, জন্মের পর থেকেই আমার মেয়ের ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত । প্রথমে গাইবান্ধা মরিয়ম চক্ষু হাসপাতালে এরপর রংপুর পপুলার হাসপাতাল ও দশর্না চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যাই । সেখান থেকে ডাক্তারদের পরামর্শে এবং দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা ধার করে ঢাকা ইসলামী চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি করাই ।

পরীক্ষা- নিরিক্ষা শেষে ধরা পড়ে ব্রেন টিউমার এবং সব টাকা সেখানেই শেষ হয়ে যায় । পরে মেয়ের চিকিৎসা না করতে পেরে বাসায় নিয়ে আসি । আমি দিনমজুর দিন এনে দিন খাই । আমার তো সংসারে সব কিছু কিনে খেতে হয় । নিজে খাবো নাকি বাচ্চার চিকিৎসাই করাবো ।

আক্রান্ত শিশুটির স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, ছোট্ট শিশুটির ব্রেন টিউমারের আক্রান্তের খবর পুরো গ্রাম কে নাড়িয়ে দিয়েছে। শায়রার বয়সী আমাদেরও ছেলে- মেয়ে আছে তার এই কষ্ট দেখে খুব খারাপ লাগে।

যে বয়সে খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকার কথা সেই বয়সে মাসুম বাচ্চাটি অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে । তাই সরকার ও সমাজের বিত্তবানরা যদি সহযোগিতা করে তাহলে শিশুটি নতুন জীবন ফিরে পাবে।

অসুস্থ শিশু শায়রা বলেন, আমি রাতের বেলা ঘুমাতে পারিনা, চোখ ব্যাথা করে পুজ বের হয় এসব অসুখের যন্ত্রনার কথা বলেই কেঁদে ফেলেন ছোট্র শিশুটি । বাঁচার আকুতি জানান।

বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফজলুল কাইয়্যুম হুদা বলেন, পরিবারটি খুবই অসহায়। আব্দুস সামাদের মেয়ের চিকিৎসার জন্য সরকার সহ সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা এগিয়ে আসলে সকলের সহযোগীয় বেঁচে যেতে পারে তাদের সন্তান। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সাধ্যমত সহযোগীতা করার কথা জানান তিনি ।


Share: