ঘোড়ার মাংস ক্রয়-বিক্রয় রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি-র নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ এনিম্যাল ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ আদনান আজাদ এই স্মারকলিপিটি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে হস্তান্তর করেন।
স্মারকলিপিতে জানানো হয় যে, ঘোড়া ঐতিহাসিকভাবে মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু এবং যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের একটি অন্যতম মাধ্যম হিসেবে পরিচিত হলেও সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে গোপনে ঘোড়া জবাই ও এর মাংস বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে যা সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ আদনান আজাদ উল্লেখ করেন যে, ঘোড়া কোনোভাবেই গবাদিপশু বা খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত প্রাণী নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রাণী যা পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয় যে, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশের মানুষ ঘোড়ার মাংস গ্রহণ করে না এবং অনেক ক্ষেত্রে অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র এই মাংস অন্য কোনো প্রাণীর মাংসের সাথে মিশিয়ে বাজারজাত করছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং প্রাণী অধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। প্রতিমন্ত্রীর নিকট দাবি জানানো হয়েছে যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন বা প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বাংলাদেশে ঘোড়ার মাংস কেনাবেচা এবং এটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন এবং এ বিষয়ে বিদ্যমান আইন পর্যালোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। বাংলাদেশ এনিম্যাল ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন আশা প্রকাশ করেছে যে, সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে ঘোড়ার ওপর নিষ্ঠুরতা বন্ধ হবে এবং এই নিরীহ প্রাণীটির সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। স্মারকলিপি প্রদানের সময় সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন যারা ঘোড়ার অধিকার রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।