নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী এমডি ফারহান লঞ্চের কেবিনে ঢাকার ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে হাতিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত ৮টায় হাতিয়া উপজেলার ওছখালী বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
এর আগে, গত ৮ মার্চ নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে এমডি ফারহান লঞ্চে করে ঢাকায় যাওয়ার পথে ভিকারুননেসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই ঢাকার কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করে। ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এদিকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ওছখালিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে এনসিপির নেতাকর্মীরা। একই সময় স্থানীয় বিএনপি'র নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা ও ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচ জন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাতিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ ফাহিম উদ্দিন দাবি করেন, লঞ্চে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতরা জাতীয় নাগরিক পার্টির সমর্থক। এ ঘটনার প্রতিবাদে তারা মিছিল করলে অপর পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করে। পরে মিছিল শেষে ফেরার পথে তাদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এতে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস ও পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম দুখুসহ কয়েকজন আহত হন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে হাতিয়া উপজেলা জাতীয় যুবশক্তির নেতা মো. ইউসুফ বলেন, ‘আমাদের বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা করলে আমাদের ৫ জন আহত হয়।’
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, ‘ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপি নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করলে বিএনপি নেতাকর্মীরাও অন্য দিক থেকে একটি মিছিল নিয়ে আসে। উভয়পক্ষ মুখোমুখি হয়ে হাতাহাতি হয়। বড় কোন সংঘর্ষ ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’