মহাকাশের গভীরে লুকিয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য জগৎ, যেখানে বাস্তবতাই যেন কল্পনাকে হার মানায়। এমনই এক গ্রহ হলো ‘৫৫ ক্যানক্রি ই’, যাকে নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা চলছে।
পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই গ্রহটি আকারে পৃথিবীর প্রায় দ্বিগুণ এবং ভরের দিক থেকে প্রায় আট গুণ ভারী। তবে এর সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এর গঠন বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি আংশিকভাবে কার্বন-সমৃদ্ধ এবং বিশাল অংশজুড়ে হীরার মতো কঠিন পদার্থে পরিণত।
কার্বন সাধারণ অবস্থায় কয়লা বা গ্রাফাইট হিসেবে থাকে, কিন্তু প্রচণ্ড চাপ ও তাপের মধ্যে এটি হীরায় রূপ নেয়। ৫৫ ক্যানক্রি ই গ্রহটি তার নক্ষত্রের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করায় এর পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ২,৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়। এই চরম পরিবেশে গ্রহটির ভেতরের কার্বন কাঠামো রূপান্তরিত হয়ে হীরার মতো কঠিন পদার্থে পরিণত হয়েছে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা।
বিজ্ঞানীদের অনুমান অনুযায়ী, এই গ্রহের অন্তত এক-তৃতীয়াংশই হীরার মতো কার্বন-ভিত্তিক কঠিন পদার্থে গঠিত হতে পারে। এই ধারণা সত্য হলে, এটি হবে মহাবিশ্বের অন্যতম মূল্যবান ও অদ্ভুত গ্রহ।
তবে আশ্চর্যের বিষয় হলেও বাস্তবতা হলো এখানে কোনো বায়ুমণ্ডল, পানি বা জীবনের উপযোগী পরিবেশ নেই। পুরো গ্রহটাই এক ভয়াবহ উত্তপ্ত, কঠিন এবং অচেনা এক মহাজাগতিক জগৎ।
মহাকাশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন গ্রহ আমাদের সৌরজগতের বাইরে থাকা অগণিত বিস্ময়ের একটি ছোট উদাহরণ মাত্র যা মহাবিশ্বের অজানা রহস্য আরও গভীর করে তোলে।
সূত্র: নাসা