ইউরোপে ইসরাইলি পণ্য বর্জন এখন সাধারণ কর্মীদের প্রতিবাদ সীমার বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রীয় নীতি প্রভাবিত করছে। আয়ারল্যান্ডের এক সুপারমার্কেট কর্মী গাজা সংঘাতের প্রতিবাদে ইসরাইলি ফল ও সবজি বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানালে শুরুতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে ইউনিয়ন ও জনগণের চাপে তাকে পুনঃনিযুক্ত করা হয়।
এই ঘটনায় ইউরোপের অন্যান্য দেশে কর্মীদের জন্য precedent তৈরি হয়েছে। আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের ট্রেড ইউনিয়নগুলো ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কর্মীদের ইসরাইলি পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য করা যাবে না। যুক্তরাজ্য ও ইতালির বড় রিটেইল চেইনগুলোও কিছু পণ্য তালিকা থেকে সরিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্পেন ও স্লোভেনিয়া ইতোমধ্যে পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নেদারল্যান্ডসের ক্যাম্পাসেও ছাত্র বিক্ষোভের পর সংসদ সদস্যরা পণ্য নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। আয়ারল্যান্ডে ‘অকিউপাইড টেরিটরি বিল’ পাসের চেষ্টা চলছে, যা ইসরাইলি বসতির পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করবে।
ইসরাইলি লবিস্ট ও সরকার আন্দোলন রুখতে সক্রিয়। বিভিন্ন নথি থেকে জানা গেছে, ইউরোপে আন্দোলন পর্যবেক্ষণ ও দমন করতে লক্ষাধিক ইউরো খরচ এবং আইন সংস্থা নিয়োগ করা হয়েছে। জার্মানিতে আন্দোলনকে ‘অ্যান্টি-সেমিটিক’ হিসেবে চিহ্নিত করে অর্থায়ন বন্ধের প্রস্তাবও এসেছে।
এই আন্দোলন ইউরোপের বাজার ও রাজনীতিতে ইসরাইলের অবস্থানকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।