জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে পোস্ট অফিসের সামনে নির্মিত একটি ওয়াশ ব্লক ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারের টিআর প্রকল্পের বিশেষ বরাদ্দের এক লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল সকাল ১১ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওয়াশ ব্লক নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের টাইলস, যার বাজারমূল্য মাত্র ২৫ টাকা। এছাড়া ১ টলি বালু, পুরোনো ইট এবং কম ওজনের পাতলা লোহার গেট ব্যবহার করা হয়েছে। মিস্ত্রি খাতে দেখানো হয়েছে প্রায় ৯ হাজার টাকা ব্যয়। অভিযোগ রয়েছে, নামমাত্র কাজ করে প্রকল্পের বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এদিকে, প্রকল্পটির সভাপতি হিসেবে আজিজার রহমানের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি কোনো জনপ্রতিনিধি না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্ব পেলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, নিম্নমানের টাইলস ব্যবহারের কারণে ওয়াশ ব্লকের মেঝে পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি বিপজ্জনক হতে পারে।
স্থানীয় সুইট, একরামুল ও বাবুল সহিদুলসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, আজিজার রহমান ক্ষেতলাল শিশু নিকেতনের একজন শিক্ষক হলেও বাস্তবে তাকে প্রায়শই উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের সভা-সমাবেশ ও মিছিল-মিটিংয়ে দেখা যায়। এতে প্রশ্ন উঠেছে তিনি আসলে কখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন এবং শিক্ষার্থীদের কীভাবে পাঠদান করেন।
তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় গত ১৭ বছর ধরে তিনি উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন এবং শিক্ষকতার আড়ালে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন। তারা এই বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে অভিযুক্ত আজিজার রহমান দাবি করেন, প্রকল্পের কাজ এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয়নি এবং বরাদ্দকৃত অর্থের বেশির ভাগই কাজে ব্যয় করা হয়েছে। আমি মিটিংয়ে আছি তোমার সাথে কথা বলবো৷
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওবায়দুর রহমান বলেন, বিশেষ বরাদ্দের প্রকল্প গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দেওয়া হয়, সেই বিবেচনায় তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী জানান, টিয়আর প্রকল্পের বিশেষ বরাদ্দের প্রকল্পগুলোতে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া যায়। আজিজার রহমান একজন শিক্ষক হওয়ায় তাকে এই প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের জ্ঞাতসারে পৌর সভার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি আপনিও আসুন পরবর্তীতে আপনাকে এরকম বরাদ্দ দেওয়া হবে৷
অন্যদিকে, স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন আজিজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকল্প পরিচালক পিআই ওবায়দুর এদের অনিম দুর্নীতির মহা স্বর্গ রাজ্য ঢাকিয়ে রেখে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন আওয়ামীলীগের প্রেতাত্মা আজিজার রহমান। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
এদিকে স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আজিজার রহমান তার নিজ প্রতিষ্ঠানের অধীনেও একাধিক প্রকল্প নিয়েছেন, যেখানে নামমাত্র কাজ সম্পন্ন করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং প্রকল্পটি মানসম্মত ভাবে সম্পন্ন করা হোক।