Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / খুলনা বিভাগ / সারাদেশ / খুলনা / ‘কাজে না আসলে তো পেট চলে না, সংসার অচল’ - Chief TV

‘কাজে না আসলে তো পেট চলে না, সংসার অচল’ - Chief TV

2026-05-01  ডেস্ক রিপোর্ট  26 views
‘কাজে না আসলে তো পেট চলে না, সংসার অচল’ - Chief TV

দূর থেকে দেখলে মনে হবে মাছ অথবা সবজির বাজার। একটু সামনে এগিয়ে যেতেই দেখা যায় হাতে কোদাল, সাবল, পানির বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে ও বসে রয়েছে অসংখ্য মানুষ। কেউ কেউ পাশে যন্ত্রপাতি রেখে আলাপচারিতায় ব্যস্ত। কোনো একজনকে দেখলেই ছুটছেন একদল শ্রমিক, রাখছেন ঘিরে। চলছে দর কষাকষি। এটি সবজি বা মাছের দরকষাকষি নয়, চলছে মানুষের শ্রম বিক্রি।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত খুলনার মোস্তফার মোড়ে শ্রমিকের হাটে এমন দৃশ্যের দেখা মেলে। অনেকেই বলে মানুষ বিক্রির হাট। কেউ কেউ বলে জোন (শ্রমিক) বিক্রির হাট।

হাটে আসা কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম মোড়ল বলেন, বয়সের ভারে কাজ করতে পারি না। গায়ে-পায়ে ব্যথা। চোখেও তেমন দেখি না। কিন্তু কাজে না আসলে তো পেট চলে না, সংসার অচল।

তিনি বলেন, মে দিবস কি বুঝি না। কাজ করে খেতে হয়। সংসার চালাতে হয়। কাজ পেলে যাই, না হলে যাই না। কাজের সন্ধানে সেই ভোর বেলায় এই হাটে এসেছি। কিন্তু এখনও বিক্রি হইনি। সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন কাজ মেলে। এই দিয়ে কোনোরকম চালাতে হয়। আমার এক ছেলে রয়েছে। অর্থের অভাবে সেভাবে লেখাপড়া করাতে পারিনি। সে ভ্যান চালায়। তেমন আয়ও নেই।

আর এক শ্রমিক আবুল কালাম বলেন, মোস্তফার মোড়ে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত লোক বিক্রি হয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে মহাজনরা এসে জোন (শ্রমিক) নিয়ে যায়। বেলা ৫টা পর্যন্ত কাজ করে। যখন যে কাজ আমরা পাই, সেই কাজ করি। মাটি কাটা, ধান কাটার মৌসুমে ধান কাটি, কৃষি কাজও করি। ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে এভাবেই কাজ করে চলেছি। আমার তিন মেয়ে। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছি, ছোট মেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। এখন ধান কাটার মৌসুম হওয়ায় কাজ হয়। কিন্তু বৃষ্টির কারণে বর্তমানে সেভাবে কাজ নেই। অন্য সময় সপ্তাহে ৩/৪ দিন কাজ হয়। মে দিবস সম্পর্কে জানেন বলে অকপটে স্বীকার করেন এই দিনমজুর।

বটিয়াঘাটা সুন্দরমহল এলাকা থেকে আসা নারী শ্রমিক মনোয়ারা বেগম বলেন, হাটে এসেছি ধান কাটার কাজের সন্ধানে। ধান কাটা, মলা, বান্ধা এসব কাজ করি। এই কাজ করেই সংসার চলে। পরপর দুইদিন কাজ পাইনি। মে দিবস সম্পর্কে জানি না। কাজ থাকলে করি। কাজ না হলে বাড়ি ফিরে যাই।

শুধু নজরুল, কালাম আর মনোয়ারা বেগমই নয়, মে দিবস সম্পর্কে জানেন না অনেক শ্রমিক। ছুটির দিনেও সংসার চালাতে কাজে নামতে হয় তাদের। অথচ এই দিবস সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা নেই শ্রমিকদের।

নগরীর বয়রা এলাকার বাসিন্দা শ্রমিক গোলাপ গাজী বলেন, কয়রায় কৃষি কাজ করতাম। জঙ্গলে(সুন্দরবন) মাছ ধরতাম। এখন তেমন কাজ নেই সেখানে। শহরে এসেছি এক সপ্তাহ। প্রতিদিন ভোরে এই হাটে আসি। কোনো দিন কাজ মেলে, কোনো দিন মেলে না। সেই সকাল ৭টায় এসেছি কিন্তু কাজ পাইনি। আজ মনে হয় কাজ পাবও না। তিনি বলেন, শ্রমিক দিবস বুঝি না। কাজ থাকলে করি।

কয়রা থেকে এই হাটে আসা বশিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ধানের সিজন। আবহাওয়া খারাপ থাকায় কাজ নেই। মহাজন নেই, বিক্রিও নেই। আমি সব ধরনের কাজ করি। মাটি কাটা, ধান কাটা ও রাজমিস্ত্রির হেলপার হয়ে কাজ করি।

ধান কাটার কাজে শিরোমনি নিয়ে যাচ্ছিল আল আমিনকে। কাজে যাওয়ার পথে তিনি বলেন, মহাজন জনপ্রতি ১ হাজার টাকা মজুরিতে আমাদের ৬ জনের সঙ্গে চুক্তি করেছেন।

নিজ জমির ধান কাটাতে শ্রমিক নিতে মোস্তফার মোড় হাটে আসা ওসমান সরদার বলেন, ১০ জন শ্রমিক নিতে এসেছি ধান কাটানোর জন্য। প্রতি বছর কয়রা থেকে ধান কাটতে শ্রমিকরা আসে। এবারও আসার কথা বলেছিল। তবে, তারা না আসায় এই হাটে এসেছি।

তিনি বলেন, এই হাটে প্রচুর শ্রমিক রয়েছে। কিন্তু রেট একটু বেশি। আমি ২০ দিনের জন্য শ্রমিক নেব। এখানকার শ্রমিকরা দৈনিক ভিত্তিতে যেতে চায়। আর যারা যেতে চায় তারা মজুরি বেশি চাচ্ছে।

শুধু মোস্তফার মোড়ই নয়, খুলনার বয়রা, ময়লাপোতা, সাতরাস্তার মোড় ও শিববাড়ি মোড়ে সকালে এমন হাট প্রতিদিনই বসে। 


Share: