চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্নাতক পর্যায়ের সব প্রোগ্রামে আউটকাম বেইজড এডুকেশন (ওবিই) কারিকুলাম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকায় এই আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাব, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা ওবিই বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষকদের মতে, ওবিই কারিকুলামের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট দক্ষতা বা আউটকাম অর্জন নিশ্চিত করা। এর জন্য প্রয়োজন ছোট আকারের ক্লাস, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পাঠদান পদ্ধতি। কিন্তু অধিকাংশ বিভাগে শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় এই কাঠামো বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আরিফুল হক সিদ্দিকী বলেন, প্রচলিত বছরভিত্তিক পদ্ধতির পরিবর্তে ওবিই চালুর মাধ্যমে সেমিস্টার সিস্টেমে যেতে হচ্ছে, যেখানে নির্দিষ্ট একাডেমিক পরিকল্পনা থাকবে। তবে ওবিই অনুযায়ী প্রতি ক্লাসে আদর্শ শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪০ জন হলেও বাস্তবে অনেক বিভাগে তা ১১০ জন পর্যন্ত, যা পাঠদান ও তদারকিতে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। এ সমস্যা সমাধানে ধাপে ধাপে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমানো, লজিস্টিক সহায়তা বৃদ্ধি বা সেকশনভিত্তিক ক্লাস চালুর কথা ভাবা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল শাহীন খান বলেন, ওবিই কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য তুলনামূলক কম শিক্ষার্থী প্রয়োজন। তবে অনুষদের বিভাগগুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও প্রাথমিকভাবে তারা প্রস্তুত রয়েছে এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হলে বিষয়টি আরও সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, আদর্শভাবে প্রতি শ্রেণিতে ৩৫ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী থাকলে ওবিই-এর সুফল পাওয়া সম্ভব। কিন্তু অধিকাংশ বিভাগেই এর চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী থাকায় বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ভবিষ্যতে ভর্তি নীতিতে শিক্ষার্থী সংখ্যার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নতুন এ কারিকুলাম প্রথমবার চালু হওয়ায় শুরুতে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। আপাতত বিদ্যমান সুবিধা দিয়েই কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।