গত এক দশক ধরে যার কণ্ঠ ছাড়া বলিউড বা টালিউডের কোনো সিনেমাই যেন কল্পনা করা যেত না—সেই সুরের জাদুকর অরিজিৎ সিং এবার প্লেব্যাক গান থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে আপাতত তার যাত্রার ইতি টানছেন।
নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অনুরাগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অরিজিৎ লেখেন,
“সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা। গত কয়েক বছর ধরে শ্রোতা হিসেবে আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আজ জানাচ্ছি—প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আমি আর কোনো নতুন কাজ গ্রহণ করব না। এখানেই শেষ করছি। এটা ছিল এক অসাধারণ সফর।”
তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, গান বা সংগীতের পথচলা বন্ধ করছেন না। শুধু বাণিজ্যিক সিনেমার প্লেব্যাকে আর তাকে পাওয়া যাবে না।
এই ঘোষণার পরপরই সামাজিকমাধ্যমে ভক্তদের মনখারাপের ঢেউ ওঠে। অসংখ্য অনুরাগী তার সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
ভক্তদের একাংশের ধারণা, সিনেমা পরিচালনায় নাম লেখাতে পারেন অরিজিৎ—সে কারণেই প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি তিনি।
শোনা যাচ্ছে, অরিজিৎ এখন নিজের স্বাধীন মিউজিক লেবেল ‘ওরিয়ন মিউজিক’ এবং নিজস্ব সৃষ্টিতে বেশি সময় দিতে চান। প্রায় ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে দুটি জাতীয় পুরস্কারসহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দেওয়ার পর তার এই সিদ্ধান্তকে বলিউড সংগীত জগতে এক যুগের অবসান হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
২০০৫ সালে ‘ফেম গুরুকুল’ রিয়েলিটি শোয়ের মাধ্যমে প্রথম দর্শকের সামনে আসেন অরিজিৎ। যদিও সে প্রতিযোগিতায় তিনি ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছিলেন, তবু তার প্রতিভা নজর কাড়ে পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালি ও সংগীত পরিচালক প্রীতমের।
অরিজিতের ডাকনাম সোমু। বাড়ি মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে। খ্যাতির আগে দীর্ঘদিন মুম্বাইয়ে কঠোর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।
২০১১ সালে ‘মার্ডার ২’ ছবির ‘ফির মহব্বত’ গান দিয়ে শুরু হয় তার প্লেব্যাক যাত্রা। তবে ২০১৩ সালে ‘আশিকি ২’ সিনেমার ‘তুম হি হো’ গানটি তাকে রাতারাতি গ্লোবাল সুপারস্টারে পরিণত করে।
বলিউডের পাশাপাশি বাংলা সিনেমাতেও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন অরিজিৎ। ‘বোঝে না সে বোঝে না’, ‘মেঘবালিকা’ ও ‘বসন্ত এসে গেছে’র মতো গানগুলো বাংলা শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।