বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ মিশনে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। কাতার বিশ্বকাপে ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শিরোপা জয়ের পর এবার আরও পরিণত, ভারসাম্যপূর্ণ এবং আত্মবিশ্বাসী দল নিয়ে বিশ্বমঞ্চে হাজির হয়েছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে গড়া আলবিসেলেস্তেরা টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে আক্রমণভাগ ও মাঝমাঠের দুর্দান্ত সমন্বয়কে। অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই স্কোয়াডে রয়েছেন একাধিক ম্যাচজয়ী ফুটবলার, যারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে সক্ষম।
বয়স বাড়লেও লিওনেল মেসির প্রভাব এখনো আর্জেন্টিনা দলের কেন্দ্রবিন্দু। তার অসাধারণ ফুটবল ভিশন, নিখুঁত পাসিং, ড্রিবলিং এবং নেতৃত্ব দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগায়। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়ানোর পাশাপাশি ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য এখনো অটুট রয়েছে বিশ্বকাপজয়ী এই তারকার।
আক্রমণভাগে মেসির অন্যতম সঙ্গী হুলিয়ান আলভারেজ। ক্লান্তিহীন পরিশ্রম, গতিময় ফুটবল এবং গোল করার দক্ষতায় তিনি বর্তমানে দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অস্ত্র। প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে চাপ সৃষ্টি করে সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে লাওতারো মার্তিনেজও আর্জেন্টিনার গোলের বড় ভরসা। ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি জাতীয় দলেও তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। বক্সের ভেতরে তার অবস্থান নেওয়ার দক্ষতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং শক্তিশালী শট যেকোনো রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকি।
শুধু আক্রমণভাগই নয়, মাঝমাঠেও রয়েছে সৃজনশীলতা ও প্রতিভার সমন্বয়। থিয়াগো আলমাদা ইতোমধ্যেই নিজেকে আর্জেন্টিনার অন্যতম সম্ভাবনাময় মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। খেলা নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ গড়ে তোলা এবং দূরপাল্লার শটে গোল করার সামর্থ্য তাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত করেছে।
তরুণ মিডফিল্ডার নিকো পাজকেও ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার ড্রিবলিং, ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তা এবং বিভিন্ন পজিশনে খেলার সক্ষমতা আর্জেন্টিনার মাঝমাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙতে তার সৃজনশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের তুলনায় এবারের আর্জেন্টিনা স্কোয়াডে বিকল্প ও গভীরতা আরও বেশি। ফলে কোনো একক খেলোয়াড়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে দলগত শক্তির ওপর ভর করে এগিয়ে যেতে পারবে আলবিসেলেস্তেরা।
টানা দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনা দল বর্তমানে আত্মবিশ্বাসের শীর্ষে অবস্থান করছে। অভিজ্ঞদের পরিপক্বতা এবং তরুণদের গতি ও উদ্যমের মিশেলে গড়া এই দলটি আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। বর্তমান ছন্দ ধরে রাখতে পারলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে আরেকবার লিওনেল মেসির হাতেই বিশ্বকাপ ট্রফি উঠতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।