জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও দীর্ঘ সময়ের শাসনামলকে কেন্দ্র করে ‘রিমেম্বারিং মনসুন রেভ্যুলুশন’ নামে একটি চলচ্চিত্র প্রকল্প নিয়েছিল সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা ছিল আট বিভাগের গল্প নিয়ে আটটি মাঝারি দৈর্ঘ্যের সিনেমা নির্মাণ। তবে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি; তিনটি কাজ শেষ হলেও বাকি পাঁচটি নির্মিত হয়নি।
সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সামাজিকমাধ্যমে জানান, সব চিত্রনাট্য সন্তোষজনক না হওয়ায় তাড়াহুড়া করে অর্থ ব্যয় করে সিনেমা নির্মাণ করা সমীচীন মনে হয়নি। তিনি বলেন, প্রকল্পের দুটি লক্ষ্য ছিল—বিভাগীয় পর্যায়ে তরুণ নির্মাতাদের নিয়ে কর্মশালা আয়োজন এবং ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে চলচ্চিত্রে সংরক্ষণ। কর্মশালাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনটি চলচ্চিত্রের কাজ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’ কর্মসূচির আওতায় ২১টি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করা হয়, যা ব্যাপক সাড়া ফেলে।
অন্যদিকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা খন্দকার সুমন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে এমন উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত আহ্বান, স্বচ্ছ নীতিমালা ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন থাকা জরুরি। নির্দিষ্ট কয়েকজন নির্মাতাকে সরাসরি যুক্ত করার অভিযোগেরও সমালোচনা করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, প্রকল্পটির আংশিক বাস্তবায়ন যেমন আলোচনায় এসেছে, তেমনি রাষ্ট্রীয় সাংস্কৃতিক উদ্যোগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।