বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন বৃদ্ধি, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে সরকারের ঘোষিত ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।
চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় সকল প্রকার মৎস্য নৌযান কর্তৃক যেকোনো প্রজাতির মৎস্য আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয়।
এই নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রমের আওতায় চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১৪টি উপকূলীয় জেলার ৬৭টি উপকূলীয় উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগর অন্তর্ভুক্ত ছিল। কার্যক্রম চলাকালে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়
কমিটি ও সভা: ১৪টি উপকূলীয় জেলা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলায় ৬০টি টাস্কফোর্স কমিটির সভা এবং ২৬০টি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এই নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রমের আওতায় চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১৪টি উপকূলীয় জেলার ৬৭টি উপকূলীয় উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগর অন্তর্ভুক্ত ছিল। কার্যক্রম চলাকালে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়
কমিটি ও সভা: ১৪টি উপকূলীয় জেলা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলায় ৬০টি টাস্কফোর্স কমিটির সভা এবং ২৬০টি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রচারণা: উপকূলীয় এলাকায় ১২ হাজার ৬৭৮টি ব্যানার-পোস্টার স্থাপন এবং ৬৮ হাজার ৭৫টি লিফলেট বিতরণ করা হয়।
নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: বাণিজ্যিক ট্রলারের সমুদ্রযাত্রার অনুমতি (শেলিং পারমিট) বন্ধ রাখা হয় এবং বরফকলসমূহে বরফ উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এছাড়া মৎস্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে একটি সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়।
জেলেদের মানবিক সহায়তা ও ভিজিএফ চাল বিতরণ নিষেধাজ্ঞাকালীন কর্মহীন হয়ে পড়া জেলেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ব্যাপক
উপকারভোগী: ১৪ জেলার ৬৯টি উপজেলায় মোট ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০টি নিবন্ধিত মৎস্যজীবী পরিবারকে এই সহায়তা দেওয়া হয়।
বরাদ্দ: পরিবারপ্রতি মাসিক ৪০ কেজি হারে ৫৮ দিনে মোট ২৪ হাজার ১৬৫ দশমিক ৬২৫ মেট্রিক টন ভিজিএফ (চাল) বিতরণ করা হয়।
পরিবহন ব্যয়: এই চাল প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার পরিবহন খরচ বাবদ আরও ৬০ লাখ ৪১ হাজার ৪০৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের সমন্বয়ে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় কঠোর অভিযান চালানো হয়। চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে জেলে এবং যান্ত্রিক নৌযানের সংখ্যা বেশি থাকায় এসব এলাকায় অভিযানের তীব্রতা বেশি ছিল।