প্রায়ই অনলাইনে তারকাদের ব্যক্তিজীবন, রাজনৈতিক অবস্থান কিংবা ব্যক্তিত্ব নিয়ে মনগড়া গল্প তৈরি করে এক শ্রেণির অসাধু কনটেন্ট নির্মাতা মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিকৃত ছবি ও ভুয়া বক্তব্য পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে।
এই অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন এটিএম শামসুজ্জামান, ইলিয়াস কাঞ্চন, মিশা সওদাগর, ওমর সানী, মৌসুমী, অপু বিশ্বাস, পরীমণিসহ আরও অনেক তারকা। কখনও তাদের ‘মৃত্যু’ নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, কখনও তাদের সঙ্গে ভুয়া রাজনৈতিক বক্তব্য জুড়ে দেওয়া হচ্ছে, আবার কখনও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে আপত্তিকর ছবি তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বিষয়টি নজরে এসেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগরের। তিনি জানিয়েছেন, শিল্পীদের নিয়ে এ ধরনের মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট তৈরির বিরুদ্ধে দ্রুতই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, মিশা সওদাগর নিজেও একাধিকবার গুজবের শিকার হয়েছেন। কখনও তার মৃত্যুর খবর ছড়ানো হয়েছে, কখনও তার বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এমন সময়েও তাকে জড়িয়ে একটি ভুয়া রাজনৈতিক ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

বেশ কয়েকবার এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হলেও তা বাস্তবে দেখা যায়নি। তবে এবার আর চুপ থাকবেন না বলে জানিয়েছেন শিল্পীদের নেতা মিশা সওদাগর। তিনি বলেন, এতদিন বিষয়টি গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু দিন দিন এর মাত্রা বাড়ছে। আমাদের শিল্পীদের নিয়ে নিয়মিত এমন নোংরা কাজ করা হচ্ছে। এবার আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ইতোমধ্যে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছি। বেশ কয়েকজন শিল্পীও আমার কাছে কিছু ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তারা ধারাবাহিকভাবে কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট তৈরি করে ছড়াচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফিরবেন মিশা সওদাগর। এরপরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।