ইরানের আকাশসীমায় বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ দ্বিতীয় বিমানচালককে খুঁজে পেয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
আজ রোববার (৫ এপ্রিল) আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এক ‘ভয়াবহ সম্মুখ যুদ্ধের’ পর ওই বিমানচালককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে উদ্ধার করা হলেও তিনি এখনও সম্পূর্ণ নিরাপদ নন।
সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার অভিযানটি এখনও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নিখোঁজ বিমানচালককে ফিরে পেলেও উদ্ধারকারী দলটিকে এখন ইরানের সীমানা পার হয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে হবে। বর্তমানে মার্কিন বিশেষ বাহিনী অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাদের ‘এক্সফিল্ট্রেশন’ বা নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। পুরো এলাকা জুড়ে এখনও তীব্র উত্তেজনা ও লড়াই চলছে বলে জানা গেছে।
সামরিক সূত্র অনুযায়ী, এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর দুই ক্রু সদস্য প্যারাস্যুটে অবতরণ করেন। এরমধ্যে একজনক উদ্ধার হলেও অন্যজনকে খুঁজে পেতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্রুত তৎপরতা শুরু হয়। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় একাধিক হেলিকপ্টার ও রিফুয়েলিং বিমান।
অভিযানের সময় ইরানি বাহিনীর গুলিতে দুটি হেলিকপ্টারই আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এর মধ্যে একটি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত উভয় হেলিকপ্টারই নিরাপদে ইরাকে ফিরে যায় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।
এদিকে নিখোঁজ পাইলটের খোঁজে ইরানে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে স্থানীয় মিলিশিয়াদের উদ্দেশে ঘোষণা করা হয়, তাকে জীবিত আটক করতে পারলে পুরস্কার দেওয়া হবে।
এর আগে এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ যুদ্ধবিমানটি হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ওই বিমানের পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিখোঁজ পাইলটের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমরা আশা করছি পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাবে না।
এদিকে, ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। তেহরানের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়েও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
একই সময়ে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে চলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেঙে পড়েছে বলে জানা গেছে। মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে চলা আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছেছে।