মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের একের পর এক ঘটনা জনমনে তৈরি করেছে তীব্র উদ্বেগ। মিরপুরের শিয়ালবাড়ির রাসায়নিক গুদামের আগুনের পর চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকায় তোয়ালে কারখানায় আগুন, আর সর্বশেষ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড—প্রশ্ন উঠছে, এসব কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে রয়েছে পরিকল্পিত কিছু?
তথ্য অনুযায়ী, ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর—এই পাঁচ দিনে রাজধানী ও চট্টগ্রামে তিনটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রথমটি মিরপুরের শিয়ালবাড়ির পোশাক কারখানা ও রাসায়নিকের গুদামে, দ্বিতীয়টি চট্টগ্রামের ইপিজেডের একটি কারখানায় এবং সর্বশেষটি শনিবার বিকেলে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে।
শনিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে বিমানবন্দরের আমদানিকৃত পণ্য রাখার ভবনে আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো কার্গো ভিলেজে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট, সঙ্গে নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, সিভিল অ্যাভিয়েশন, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র মো. মাসুদুল হাসান মাসুদ জানান, সন্ধ্যার দিকে আগুন আংশিক নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে পাঁচ ঘণ্টা পেরিয়েও সম্পূর্ণ নিভেনি। নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরের ফ্লাইট ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে চট্টগ্রাম, সিলেট ও কলকাতায় অবতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে, আনসার ও ভিডিপির গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকুজ্জামান জানিয়েছেন, আগুন নেভানোর সময় তাঁদের ১৭ জন সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নয়জন সিএমএইচে এবং বাকিদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে, ১৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম ইপিজেডে তোয়ালে ও গাউন তৈরির একটি সাততলা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দাহ্য পদার্থ থাকার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছিল অনেকটা।
আর ১৪ অক্টোবর মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে পোশাক কারখানা ও রাসায়নিক গুদামে আগুনে ১৬ জন প্রাণ হারান, আহত হন আরও অনেকে। প্রায় ২৭ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।
এই ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ডে একদিকে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাণ ও সম্পদ, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে আতঙ্ক ও শঙ্কা—দেশজুড়ে প্রশ্ন এখন একটাই, এসব আগুন কি কেবল দুর্ভাগ্যজনিত দুর্ঘটনা, নাকি কোনো গোপন নাশকতার ইঙ্গিত দিচ্ছে?