বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হবেন বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ‘চাঁদের আলো’খ্যাত জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি। জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেত্রী মা আনোয়ারা বেগমের চাওয়াতে এবং শিল্পীদের আগ্রহে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
কেন সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে আগ্রহী হলেন জানতে চাইলে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ সিনেমার এই নায়িকা বলেন, ‘বিগত সময় আম্মা শিল্পী সমিতির কমিটিতে ছিলেন। মায়ের স্বপ্ন বেঁচে থাকতে তিনি আমাকে সাধারণ সম্পাদক পদে দেখে যেতে চান। ওনার চাওয়া শিল্পীদের জন্য আমি যেন ভালো কিছু করি। তাই মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে এবং শিল্পীদের কল্যাণের কথা ভেবে সাধারণ সম্পাদক পদে এবার নির্বাচন করব। সমিতি বিমুখ সদস্যদের পুনরায় সমিতি মুখী করতে চাই।’
মুক্তি আরও বলেন, ‘আমি যুক্ত হওয়ার পর বর্তমান কমিটির সহযোগিতায় গত দেড় বছরে সমিতির বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে দুই ঈদে উপহার দেওয়াসহ আরও অনেক কিছুই সদস্যদের জন্য আমরা করেছি। এ ছাড়া সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে যে, এই কমিটির উদ্যোগে শিল্পী সমিতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে সকল শিল্পী প্রয়াত হয়েছেন তাদের স্মরণে প্রথমবারের মতো আমরা বড় পরিসরে ‘স্মৃতির আয়নায় কিংবদন্তির দৃশ্য’ শীর্ষক ব্যানারে প্রয়াত সব শিল্পীদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্মরণসভা করেছি। আমার এক ফোনে এই আয়োজনে অংশ নিতে আমেরিকা থেকে ছুটে এসেছিলেন জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা আহমেদ শরীফ মামা।
এ ছাড়াও কিংবদন্তি অভিনেতা সোহেল রানা মামা থেকে শুরু করে প্রয়াতদের পরিবার এবং অনেক নবীন-প্রবীণ শিল্পীরা এই আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছিলেন। এখন থেকে প্রতি বছর এই স্মরণসভা হবে। এ ছাড়া আরও ভালো কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করে আমরা সফল হয়েছি। নির্বাহী সদস্য পদে থাকলেও এরই মধ্যে সদস্যদের জন্য বড় কিছু দায়িত্ব পালন করেছি। আরও ভালো কিছু পরিকল্পনা রয়েছে, যা সময় মতো জানাব। আশা রাখছি, শিল্পী সমিতির সম্মানিত সদস্যরা আমার পাশে থাকবেন।’
এই অভিনেত্রী বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই শিল্পীদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক। বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে মেশার সুযোগ হয়েছে। সুযোগ পেলেই এফডিসিতে সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো হয়। এ ছাড়া শিল্পী সমিতির বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বরাবরের মতো শিল্পীদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। সেই জায়গা থেকে নবীন-প্রবীণ শিল্পীরা খুব করে চাচ্ছেন আমি যেন সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করি। চিত্রকর্মীদের আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আশা রাখছি, অভিজ্ঞদের নিয়ে সুন্দর একটি প্যানেল শিল্পীদের উপহার দিতে পারব। আমার কমিটিতে দক্ষ মানুষগুলো রয়েছেন। সেইসঙ্গে বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই আমাকে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।’
উল্লেখ্য, খ্যাতিমান অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগমের একমাত্র মেয়ে রুমানা ইসলাম মুক্তি। অভিনয়ে তার সাবলীলতা, সংলাপ বলার ভঙ্গি ও অনাবিল হাসি সহজেই দর্শকের মন জয় করেছে।
সিনেমা ছাড়াও অসংখ্য দর্শকপ্রিয় নাটক উপহার দিয়েছেন মুক্তি। বেশকিছু নাটক প্রযোজনাও করেছেন। কাজহীন শিল্পীদের জন্য নতুন করে প্রযোজনা নিয়েও ভাবছেন। মুক্তি শুধু একজন শিল্পীই নন দেশের নামকরা বেশকিছু সংগঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছেন। মোট কথা সংগঠন নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। সমাজ সেবায়ও এই নায়িকার সুনাম রয়েছে। দেশের বিভিন্ন সংকটকালে মানবিক কাজেও তাকে দেখা যায়। পর্দার বাইরে মুক্তি শান্ত, পরিবারপ্রেমী ও নিভৃত স্বভাবের মানুষ।