বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) এলাকায় শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতি, প্রযোজক সমিতিসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অন্তত ১৮টি সংগঠনের কার্যালয় থাকলেও সিনেমার গানের শিল্পী ও সংগীত–সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের জন্য নেই কোনো নির্দিষ্ট কক্ষ কিংবা বসার ব্যবস্থা। এই বাস্তবতা তুলে ধরে সংগীতশিল্পীদের ‘চলচ্চিত্রশিল্পী’ হিসেবে স্বীকৃতি এবং প্রাপ্য সুযোগ–সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যানসি।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক লিখিত আবেদনে তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেখানে তিনি চলচ্চিত্রের গানের শিল্পী, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালকদের বিএফডিসির আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে চলচ্চিত্রশিল্পী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানান।
ন্যানসি লেখেন, বাংলা চলচ্চিত্রে গান বরাবরই একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সিনেমার প্রচার, জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্যিক সাফল্যে গানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অথচ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেও সংগীত–সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীরা বিএফডিসির সুযোগ–সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এমনকি শিল্পী সমিতিতে তাদের সদস্যপদ বা ভোটাধিকারও নেই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএফডিসিতে পরিচালক, প্রযোজক ও শিল্পীদের জন্য আলাদা কক্ষ থাকলেও সংগীতশিল্পীদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই। বিশ্রাম, চর্চা কিংবা রিফ্রেশমেন্টের ব্যবস্থাও নেই—যা বিশেষ করে নারী শিল্পীদের জন্য আরও কষ্টকর।
ন্যানসি বলেন, উৎসব বা বিভিন্ন আয়োজনে নিয়মিত গানের শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তারা আজও অবহেলিত। বিষয়টি তিনি আগেও বিভিন্ন আলোচনায় ও গণমাধ্যমে তুলে ধরলেও এবার প্রথমবার সরাসরি মন্ত্রণালয়ের কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানালেন।
আবেদনে তিনি বিএফডিসির তত্ত্বাবধানে সংগীত–সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কার্যালয় বা বসার জায়গা বরাদ্দের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রশিল্পের অংশ হিসেবে তাদের মর্যাদা স্বীকৃতি দিয়ে সব সুযোগ–সুবিধার আওতায় আনার আহ্বান জানান।
সবশেষে ন্যানসি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন—বিএফডিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংগীতশিল্পীদের অংশগ্রহণ আরও অর্থবহ ও মূল্যায়িত করার উদ্যোগ নেয়।