সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে টানা ছয় দিন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অবশেষে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেন নূরুজ্জামান শেখ নামে ৪৫ বছর বয়সী এক ভাগ্যজয়ী জেলে। সাতক্ষীরা রেঞ্জ পশ্চিম সুন্দরবনের এক হিংস্র বনদস্যু চক্রের আস্তানা থেকে কৌশলে পালিয়ে বনের ফল আর গাছের পাতা খেয়ে কোনো রকমে জীবন বাঁচিয়েছেন তিনি।
বুধবার সন্ধ্যার পর একটি জেলে নৌকার সহায়তায় তিনি শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কালিঞ্চি গ্রামে নিজের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনরা প্রায় আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন, তবে তার এই ফিরে আসা যেন এক অবিশ্বাস্য গল্পকেও হার মানিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত ৪ জুন, যখন বুড়িগোয়ালিনী বন অফিস থেকে কাঁকড়া ধরার পাস নিয়ে নূরুজ্জামান ও তার সঙ্গীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত ৪ জুন, যখন বুড়িগোয়ালিনী বন অফিস থেকে কাঁকড়া ধরার পাস নিয়ে নূরুজ্জামান ও তার সঙ্গীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করেন।
পরদিন বিকেলে কচুখালী খালে কাঁকড়া ধরার সময় হঠাৎ অস্ত্রধারী কুখ্যাত 'জোনাব বাহিনী' তাদের ওপর হামলা চালায়। দস্যুরা অস্ত্রের মুখে নূরুজ্জামানসহ চার জেলেকে জিম্মি করে মাথা পিছু ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অন্য জেলেদের পরিবার টাকা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিলেও নূরুজ্জামানকে আটকে রাখা হয়।
এরপরই ঘটে সেই রোমহর্ষক ঘটনা; এক গভীর রাতে সুযোগ বুঝে দস্যুদের চোখ ফাঁকি দিয়ে গহীন বনে পালিয়ে যান তিনি। বাঘ আর সাপের ভয়কে উপেক্ষা করে একটি উঁচু গাছে আশ্রয় নেন এবং টানা পাঁচ দিন শুধু বনের পাতা ও ফল খেয়ে বেঁচে থাকেন। দিনের বেলা লুকিয়ে থেকে রাতে চলার পর অবশেষে একটি জেলে নৌকার দেখা পান এবং তাদের সাহায্যেই নিজের ভিটায় পা রাখেন।
এই বিষয়ে বন বিভাগ জানিয়েছে তারা পুরো বিষয়টির খোঁজখবর নিচ্ছে, তবে এই ঘটনা সুন্দরবনে জেলেদের নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও বড় প্রশ্ন চিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।