Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / আন্তর্জাতিক / যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্তে যা বলছে মার্কিন পুলিশ - Chief TV

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্তে যা বলছে মার্কিন পুলিশ - Chief TV

2026-04-25  আন্তর্জাতিক ডেস্ক  30 views
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্তে যা বলছে মার্কিন পুলিশ - Chief TV

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন পুলিশ।

নিহত জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করেছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস। অন্যদিকে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি লেখেন, আমার বোন আর আমাদের সঙ্গে নেই, ইন্না লিল্লাহি ও ইন্না ইলাহি রাজিউন। তবে নাহিদার মৃত্যুর বিষয়ে মার্কিন পুলিশ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।

সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটি পুলিশ (ইউএসএফপিডি) জানিয়েছে, জ্যামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি দুজনই ইউএসএফ-এর পিএইচডি (ডক্টরাল) শিক্ষার্থী ছিলেন। লিমন ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন এবং তাকে শেষবার দেখা গিয়েছিল ১৬ এপ্রিল সকাল ৯টায় তার বাসায়।

অন্যদিকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী নাহিদা বৃষ্টিকে একই দিন সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শেষবার দেখা যায়। ১৭ এপ্রিল বিকেলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে এক পারিবারিক বন্ধু পুলিশকে খবর দেন।

শুক্রবার লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিসের ডুবুরি দল হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছে পানিতে নাহিদা বৃষ্টির সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা মোটিভ জানা যায়নি। নাহিদা বৃষ্টির অবস্থান সম্পর্কেও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার ঘটনাটিকে অত্যন্ত 'হৃদয়বিদারক' বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনা আমাদের পুরো সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

জ্যামিল লিমনের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক, তবে আমি জনগণকে আশ্বস্ত করছি যে আমাদের গোয়েন্দারা সত্য উদ্ঘাটনে দিনরাত কাজ করছেন। দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে আমরা প্রতিটি সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে যাব।

সাবেক এফবিআই এজেন্ট ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. ব্রায়ানা ফক্স ঘটনাটি বিশ্লেষণ করে জানান, অপরাধের আলামত যেভাবে টাম্পা বে এলাকার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পাওয়া যাচ্ছে, তা দেখে মনে হয় এটি খুব বেশি পরিকল্পিত ছিল না; বরং তাড়াহুড়োর মধ্যে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, লিমনের মরদেহ জনবহুল হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছে পাওয়া যাওয়াও রহস্যজনক। সাধারণত এ ধরনের ঘটনার পেছনে আর্থিক লেনদেন, ঈর্ষা বা তাৎক্ষণিক ঝগড়া কাজ করে। তার মতে, অভিযুক্তের অপরাধের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তার মধ্যে হিংস্রতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

লিমনের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্ত চলছে। আশা করা হচ্ছে, শনিবারের মধ্যেই প্রাথমিক ফলাফল পাওয়া যাবে।

এদিকে নাহিদা বৃষ্টির সন্ধান বা ঘটনার কোনো তথ্য কারও কাছে থাকলে দ্রুত হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিসের ৮১৩-২৪৭-৮২০০ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।


Share: