জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, ১০ দলীয় জোট বর্তমানে একটি বৃহৎ জোটে পরিণত হয়েছে। এই জোটে স্বাধীনতা যুদ্ধের একমাত্র জীবিত বীর বিক্রম মুক্তিযোদ্ধা, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রসমাজের প্রতিনিধি ও তাদের দলসহ দেশের বড় বড় ইসলামী দলগুলো রয়েছে। আমরা যে দলই করি না কেন, উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। আমাদের নির্বাচিত করলে দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদ কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা-য় প্রকাশিত সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ডা. তাহের আরও বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রধান ভারতের সঙ্গে তিনটি শর্তে চুক্তি করেছে।
এক. ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিল, তাদের পুনর্বাসন করতে হবে।
দুই. বাংলাদেশের আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র কিনতে হলে ভারতের অনুমতি নিতে হবে; ভারতের অনুমতি ছাড়া কোনো অস্ত্র কেনা যাবে না।
তিন. এ দেশের ইসলামপন্থী দলগুলোকে দমন করতে হবে।
ডা. তাহের বলেন, আনন্দবাজার পত্রিকা আমাকে প্রশ্ন করেছে—আপনারা কি হিন্দুদের জমি দখল করেছেন? আমি বলেছি, এ দেশে হিন্দুদের অনেক জমি বেদখল হয়েছে, কিন্তু জামায়াতের একজন লোকও হিন্দুদের জমি দখল করেনি। উপস্থিত সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ভারত যাদের বন্ধু মনে করে, তারাই হিন্দুদের সম্পদ লুট করে।
বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছুপুয়া এলাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রথম সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. তাহের।
চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক জিএস খলিলুর রহমান মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আবদুস সাত্তার, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আমীর মাহফুজুর রহমান, সাবেক আমীর ভিপি সাহাব উদ্দিন, পৌর আমীর মাওলানা মো. ইব্রাহিম, উপজেলা সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন এবং শিল্পপতি মহিউদ্দিন আহমেদ ভুঁইয়া নঈম।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা শিবিরের সাবেক সেক্রেটারি ফরিদুজ্জামান রুবেল ও সাবেক ছাত্রনেতা কামরুজ্জামান নোমানের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আড্ডা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর হারুনুর রশীদ, কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মজুমদার, হাজী রুহুল আমিন, শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা নুরুজ্জামান খোকন, ছুপুয়া মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি আবুল খায়ের মজুমদার, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবদুর রহিম, কালিকাপুর ইউনিয়ন আমীর মাওলানা আবুল হাশেম, সেক্রেটারি মকবুল আহমেদ, শ্রমিক কল্যাণ সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম মজুমদার, সাবেক প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি হাফেজ আবু তাহের, মাওলানা হোসাইন মোরশেদ, বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন মাওলানা লুৎফুর রহমান প্রমুখ।
এ সময় কালিকাপুর ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।