Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / রাজশাহী বিভাগ / সারাদেশ / বগুড়া / বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষেই রাস্তা উধাও - Chief TV

বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষেই রাস্তা উধাও - Chief TV

2026-06-11  ডেস্ক রিপোর্ট  20 views
বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষেই রাস্তা উধাও  - Chief TV
বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে রাতারাতি ইট বিছিয়ে তৈরি করা একটি রাস্তা থেকে সফর শেষ হতেই সব ইট তুলে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটারের এই কাঁচা সড়কটি পাকাকরণের জন্য গত অর্থবছরেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
 
মেসার্স হক ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও তারা নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু করেনি। পরবর্তীতে গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর বগুড়া সফরকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি করে সড়কটিতে ইট বিছানোর তোড়জোড় শুরু করে এলজিইডি।
 
আর এই অস্থায়ী কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমানকে। প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হওয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই সেই সড়কের সব ইট আবার তুলে নেওয়া হয়, যার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের কথা শুনে কাঁচা রাস্তায় ইট বিছানোয় তারা ভেবেছিলেন দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ শেষ হতে চলেছে। কিন্তু সফর শেষ হতেই রাস্তা থেকে সব ইট তুলে নেওয়ায় তারা এখন আগের চেয়েও বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, আনুসঙ্গিক কিছু কাজসহ এই অস্থায়ী সংস্কারের পেছনেই প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত আতিকুর রহমান জানান, এলজিইডির নির্দেশেই তিনি ইটভাটা থেকে ভাড়ায় ইট এনে অস্থায়ীভাবে সড়কে বিছিয়েছিলেন এবং সফর শেষে তা আবার ভাটায় ফেরত দিয়েছেন। এই কাজের জন্য এলজিইডি থেকে তাকে শুধু পরিবহন ও শ্রমিক খরচ দেওয়া হয়েছে, তবে খরচের সঠিক অঙ্কটি তিনি মনে করতে পারেননি।

নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রোকন তালুকদার এবং গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ সফর উপলক্ষে জরুরি বরাদ্দের আওতায় সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করতে ভাড়ায় ইট আনা হয়েছিল এবং কাজ শেষে তা নিয়ম মেনেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
 
অন্যদিকে, এলজিইডির বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, সড়কটি পাকাকরণের জন্য আগেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকায় নতুন করে ইট কিনতে গেলে সরকারের ব্যয় অনেক বেড়ে যেতো। তাই নিয়মনীতি মেনেই ভাড়ায় ইট এনে সাময়িকভাবে সোলিং করা হয়েছিল।
 
এখন মূল প্রকল্পের কার্পেটিং কাজ এগিয়ে নিতেই ঠিকাদারকে সেই অস্থায়ী ইট সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে মূল প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি যেভাবে নেতিবাচকভাবে ছড়ানো হচ্ছে, বাস্তবতা মোটেও তেমন নয় বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

Share: