Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / রাজশাহী বিভাগ / সারাদেশ / বগুড়া / মহাস্থানগড় মাজারে রেকর্ড সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার - Chief TV

মহাস্থানগড় মাজারে রেকর্ড সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার - Chief TV

2026-06-04  ডেস্ক রিপোর্ট  33 views
মহাস্থানগড় মাজারে রেকর্ড সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার - Chief TV
বগুড়ার মহাস্থানগড়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হজরত শাহ সুলতান বলখীর (র.) মাজারের ১৫টি দানবাক্স বা লোহার সিন্দুক খুলে এবার প্রায় ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। বিপুল পরিমাণ এই নগদ অর্থের পাশাপাশি সিন্দুকগুলোতে জমা হওয়া বেশ কিছু স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে।
 
গত মঙ্গলবার সকালে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সরকারি প্রতিনিধি ও মাজার কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলার পর প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থীর সহায়তায় অর্থ গণনার কাজ শুরু হয়। প্রথম দিনে গণনা শেষ না হওয়ায় বুধবার সকাল থেকে পুনরায় গণনা শুরু করা হয় এবং বিকেলে চূড়ান্ত হিসাব সম্পন্ন হয়।

গণনা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজালাল জানান, দুই দিনব্যাপী নিবিড় গণনা শেষে দানবাক্সগুলো থেকে মোট প্রায় ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা পাওয়া গেছে, যা পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী মাজারের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে। মাজার কমিটির সদস্যরা জানান, এবার দানবাক্সের সংখ্যা বেশি থাকায় এবং সমাগম বৃদ্ধির কারণে আগের তুলনায় প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
 
নগদ অর্থের পাশাপাশি পাওয়া স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ম অনুযায়ী সরকারি তালিকাভুক্ত করে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রমতে, প্রতি তিন থেকে চার মাস পরপর এই মাজারের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। দীর্ঘ সময় পর খোলা ১৫টি লোহার সিন্দুক টাকা, পয়সা ও ভক্তদের দেওয়া স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকারে পরিপূর্ণ ছিল। সিন্দুক থেকে সংগৃহীত অর্থ প্রথমে বস্তাবন্দি করে মাজার কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং পরে ব্যাংক কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় তা গণনা করা হয়।

দানবাক্সের অর্থ গণনার কাজে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, এত বিপুল পরিমাণ অর্থ গণনার কাজে অংশ নেওয়া তাদের জন্য একটি ভিন্নধর্মী ও দায়িত্বশীল অভিজ্ঞতা। এর আগে প্রায় তিন মাস আগে মাজারের পাঁচটি দানবাক্স থেকে ১৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল। মাজার কর্তৃপক্ষের মতে, বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বার্ষিক ওরস মাহফিলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হওয়ায় এবার দানের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
 
মাজার কমিটির সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল করিম জানান, প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী মাজারে আসেন এবং মানত ও দান করেন। এই দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত অর্থ মাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, এতিমখানা পরিচালনা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন এবং স্থানীয় দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসহ সার্বিক সহায়তায় ব্যয় করা হয়ে থাকে।

Share: