Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / রাজনীতি / বিএনপি জিতলে তারেক রহমান, জামায়াত জোটের কে - Chief TV

বিএনপি জিতলে তারেক রহমান, জামায়াত জোটের কে - Chief TV

2026-01-23  ডেস্ক রিপোর্ট  144 views
বিএনপি জিতলে তারেক রহমান, জামায়াত জোটের কে - Chief TV

জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই সামনে আসছে, আগামী দিনের বাংলাদেশে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন—তা নিয়ে জনমনে আগ্রহ ও আলোচনা বাড়ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন মূলত দুটি বড় শক্তির প্রতিযোগিতা দৃশ্যমান। একদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১০ দলীয় জোট।

বিএনপির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে তেমন কোনো অনিশ্চয়তা নেই। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বিএনপি আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়। তার ভাষায়, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, সুখী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যেই দল এগোচ্ছে।

অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটে প্রধানমন্ত্রী পদটি নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো ঘোষণা নেই। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলের মতে, জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে আসন সমঝোতা, ক্ষমতার কাঠামো ও নেতৃত্ব বণ্টন নিয়ে একাধিক বৈঠক হলেও নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ঘোষণা করা হলে ঐক্যে ফাটল ধরতে পারে—এই আশঙ্কায় বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবেই ধোঁয়াশায় রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সাধারণত একজন শীর্ষ নেতাকে সামনে রেখে দল বা জোট নির্বাচনী প্রচারণায় নামে। অতীতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রেও একই ধারা দেখা গেছে। এবারও বিএনপি জোট সামনে রেখেছে তারেক রহমানকে। কিন্তু জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে দেখা যাচ্ছে যৌথ নেতৃত্বের ধারণা, যেখানে কোনো একক মুখ এখনো সামনে আনা হয়নি।

এই ১০ দলীয় জোটে রয়েছে ইসলামপন্থি ও ইসলামপন্থি নয়—এমন ভিন্ন ধারার দল। ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। অন্যদিকে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এলডিপি, এবি পার্টি, জাগপা ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। আদর্শিক বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও সংস্কার, বিচার, আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের মতো কিছু সাধারণ লক্ষ্যের ভিত্তিতে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, আদর্শিক ভিত্তি ও নেতৃত্ব নিয়ে স্পষ্ট রূপরেখার অভাব এই জোটের দুর্বলতা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনে জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন কিংবা বিরোধী দলে গেলে বিরোধীদলীয় নেতা কে হবেন—এসব প্রশ্নের উত্তর না থাকায় ভোটারদের মধ্যে সংশয় তৈরি হচ্ছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরুতেই এসব প্রশ্নের সুরাহার কথা তুললেও পরে আদর্শিক ও রাজনৈতিক কারণে তারা জোট থেকে সরে দাঁড়ায়। তাদের প্রস্থান জোটে জামায়াতের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যে জামায়াত এককভাবে ২১৫টি আসনে প্রার্থী দেওয়ায় দলটিই যে জোটের প্রধান শক্তি, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এ প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসনসংখ্যার বিচারে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানই সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এগিয়ে থাকতে পারেন। যদিও জোটের শরিক দলগুলো প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে নারাজ।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেছেন, যেহেতু জামায়াত সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে নির্বাচন করছে, তাই জোটের নেতৃত্বে তাদের ভূমিকা স্বাভাবিকভাবেই মুখ্য। আবার জামায়াতের নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচন শেষে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতেই সরকারপ্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

জোটের আদর্শিক অবস্থান সম্পর্কে এনসিপির নেতারা বলছেন, এটি কোনো একক আদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নয়। গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই সবাই তাদের নিজ নিজ দর্শন বজায় রেখে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নিতে চায়। জামায়াত নেতারাও বলেছেন, ক্ষমতায় গেলেও বিদ্যমান আইন কাঠামোর বাইরে গিয়ে হঠাৎ কোনো বড় পরিবর্তন আনা হবে না; সবকিছুই সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্ব স্পষ্ট হলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রশ্নটি এখনও অঘোষিতই রয়ে গেছে। এই অস্পষ্টতা ভোটের মাঠে তাদের শক্তি বাড়াবে নাকি দুর্বল করবে—তার উত্তর মিলবে নির্বাচনের ফলাফলেই।


Share: