৩৬ ডিগ্রি তাপমাত্রায় হাঁসফাঁস কাজিপুরবাসী, বৃষ্টির পূর্বাভাসে স্বস্তির আশা
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে গত কয়েকদিন ধরে চলমান তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সঙ্গে ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছেন সাধারণ মানুষ। সূর্য ওঠার পর থেকেই বাড়তে থাকে রোদের তীব্রতা, আর দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা অসহনীয় রূপ ধারণ করছে।
প্রচণ্ড গরমের কারণে প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া মানুষ। তীব্র রোদ ও গরমে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে গেছে। ব্যস্ত সড়কগুলোও দিনের বেশিরভাগ সময় ফাঁকা দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘরের ভেতরে ফ্যান চালিয়েও স্বস্তি মিলছে না। ফ্যান থেকে বের হওয়া গরম বাতাসে ঘরের ভেতরেও অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে। বাইরে বের হলে মনে হচ্ছে শরীর যেন আগুনে ঝলসে যাচ্ছে।
এদিকে তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। ডায়রিয়া, জ্বর, পানিশূন্যতা এবং হিট স্ট্রোকের মতো সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও গরমজনিত রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ জুন) কাজিপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে স্বস্তির খবর দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ৩ জুন থেকে ৫ জুনের মধ্যে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর এলাকায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিপাত হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসবে এবং তীব্র গরম থেকে মানুষ স্বস্তি পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের তাপদাহে অতিষ্ঠ কাজিপুরবাসী এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এক পশলা বৃষ্টির জন্য, যা ফিরিয়ে আনতে পারে স্বস্তি ও প্রাণচাঞ্চল্য।