কাজিপুরে সিএনজি ভাড়ার নৈরাজ্য চরমে, অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় সিএনজি অটোরিকশা ভাড়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও নৈরাজ্য এখন জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঈদ-পার্বণকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়, তবে বর্তমানে সাধারণ দিনগুলোতেও যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ, এমনকি কোথাও কোথাও তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার মেঘাই, আলমপুর, সীমান্তবাজার, পিপুলবাড়িয়া, সোনামুখী বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। বিশেষ করে সোনামুখী বাজার থেকে সিরাজগঞ্জ শহরগামী রুটে প্রকাশ্যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। স্থানীয়দের দাবি, দিনের বেলাতেও যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, অথচ এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
ভুক্তভোগীরা জানান, আগে সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা থাকলেও বর্তমানে সেটি দিনের বেলাতেও নিয়মে পরিণত হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়া পরিশোধ করছেন। বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় অনেকেই প্রতিবাদ করার সুযোগ পাচ্ছেন না।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। নির্ধারিত ভাড়া তালিকা থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ দেখা যায় না। ফলে অসাধু চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।
এলাকাবাসীর মতে, কাজিপুর থানা ও উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতার পরিচয় দিলেও সিএনজি ভাড়া নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা কাজিপুর উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, নির্ধারিত ভাড়া তালিকা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি এবং প্রয়োজনীয় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে এই দীর্ঘদিনের ভাড়া নৈরাজ্যের অবসান ঘটানো হোক।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘব করবে এবং যাত্রীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করবে।